খার্গ হামলার বদলা? দুবাইয়ে পর পর বিস্ফোরণ, আমিরশাহির তেলঘাঁটি নিশানায় ইরানের হামলা

খার্গ আইল্যান্ড হামলায় আমিরশাহির ঘাঁটি ব্যবহারের অভিযোগের পর দুবাই ও ফুজাইরায় হামলা ইরানের। একাধিক বিস্ফোরণে আতঙ্ক, তেল টার্মিনালে আগুন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। ইরানের তেলঘাঁটি খার্গ আইল্যান্ডে হামলার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলার পরই বদলার পথে হাঁটল তেহরান। রবিবার দুবাই ও আমিরশাহির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার খবর মিলেছে। দুবাই মেরিনা ও আল সুফৌ সংলগ্ন এলাকায় পরপর বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়ায়। একই দিনে ফুজাইরা তেল টার্মিনালেও হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি, খার্গ আইল্যান্ডে হামলা চালাতে আমেরিকা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অন্তত দু’টি ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল। তার পর থেকেই আমিরশাহিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ তীব্র করেছে তেহরান।

রবিবার ফুজাইরার তেল টার্মিনালে হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই ঘটনায় জর্ডনের এক নাগরিক আহত হয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত বড় কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

শনিবারও দুবাই শহরে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শহরের কেন্দ্রীয় অংশে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে লক্ষ্য করে ইরান ইতিমধ্যে ১৮০০-রও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৬০০টি ড্রোন, ২৯৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫টি ক্রুজ় মিসাইল। পশ্চিম এশিয়ার অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে এত বেশি হামলার নজির নেই বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই হামলাগুলিতে আমিরশাহিতে অন্তত ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, রাস আল-খাইমার একটি ঘাঁটি ব্যবহার করে খার্গ আইল্যান্ডে হামলা চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি দুবাইয়ের কাছাকাছি একটি মার্কিন ঘাঁটি থেকেও বোমা ফেলা হয় বলে অভিযোগ তেহরানের। এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আরাঘচি। তবে তিনি জানিয়েছেন, জনবহুল এলাকায় আঘাত হানা এড়ানোর চেষ্টা করবে ইরান।

ইরানের এই অভিযোগ নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তারা এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।

এদিকে ইরানের লাগাতার হামলার মাঝেও সংযত বার্তা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকার। দেশের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে, তবে আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

রবিবার কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও কয়েকটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাহরিন, ওমান এবং সৌদি আরবেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও সৌদি আরবের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে সেই হামলার দায় এখনও স্বীকার করেনি ইরান।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত