নজরবন্দি ব্যুরোঃ অস্তাচলে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সুমিত্রা সেন। মঙ্গলবার সকালে নিউমোনিয়া ও বার্ধক্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে দেহাবসান হয় তাঁর। প্রয়াণকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দীর্ঘ দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ২১ শে ডিসেম্বর ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া ধরা পড়ে শিল্পী সুমিত্রার। ভর্তি ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে। অবশ্য সোমবার রাতেই বাড়ি নিয়ে আসা হয় শিল্পীকে। কিন্তু, মঙ্গলবার আচমকাই ভোর চারটে নাগাদ মৃত্যু হয় বর্ষীয়ান এই শিল্পীর।
আরও পড়ুনঃ নতুন বছরেই ‘গপ্পের ঠেক’ খুলছেন মীর, উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত অনুরাগীরা


১৯৫১ সালে কুমারী সুমিত্রা দাশগুপ্ত নামে প্রথমে দু’টি নজরুলগীতি ‘গোঠের রাখাল বলে দে রে’, ‘বেদনার বেদী তলে’ রেকর্ডিংয়ের মধ্যে দিয়ে শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। নজরুলগীতি ছাড়াও পল্লিগীতি তেইমন জিপসিগান, ধামাইলগান, পালাগান, বিয়েরগান আধুনিকেরও রেকর্ড রয়েছে তাঁর। তবে আসল পরিচিতি শুরু হয় রবীন্দ্র সংগীতের মাধ্যমে। সারা জীবনে শুধু রবীন্দ্রনাথের গান রেকর্ড করেছেন দেড়শোরও বেশি। শিল্পী হিসেবে ষোলোটি ছবিতে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্লে-ব্যাক করেছেন। উত্তমকুমারের অনুরোধে ১৯৬০ সালে ‘শুন বরনারী’ ছবিতে গানের মধ্যে দিয়ে যা শুরু।

সন্তোষ সেনগুপ্তের পরিচালনায় ‘শ্যামা’, ‘শাপমোচন’, ‘বাল্মীকি প্রতিভা’, ‘বর্ষামঙ্গল’, ‘বসন্ত’ বা ‘মায়ার খেলা’ মতো নৃত্যনাট্য ও গীতিনাট্যে গান গেয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, দেবব্রত বিশ্বাস, সুচিত্রা মিত্র কিংবা কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাসনে বিরাজ করেও নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে পেরেছিলেন।।
অস্তাচলে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সুমিত্রা সেন, শোকের ছায়া সঙ্গীত মহলে



এখনও প্রতি বছর দেবীপক্ষের শুরুতে মহালয়ায় যাঁর কণ্ঠ আগমনী রচনা করে, তিনি সুমিত্রা। পঙ্কজকুমার মল্লিকের পরিচালনায় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র ‘মাগো তব বীণে’ সঙ্গীতটি তার গাওয়া। শুধু তাই নয়, শিল্পীর স্বকীয়তা চিহ্নিত হয় তার কাজে ও তার প্রতিভায়। সংসার, চাকরি সমস্ত সামলেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন অনন্যা। বাংলা গানের জগতে তার আরও অবদান। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী তাঁর আরও দুই কন্যা। বাংলা সঙ্গীত দুনিয়ায় তাঁর বড় কন্যা শিল্পী ইন্দ্রাণী সেন ও কনিষ্ঠ কন্যা শ্রাবণী সেনও শিল্পী হিসাবে যথেষ্ট জনপ্রিয়। আজ শ্রাবণী সেন ফেসবুকে লেখেন, ‘‘আজ মা ভোরে চলে গেলেন।’’ সুমিত্রা সেনের প্রয়াণে শোকের ছায়া সঙ্গীত মহলে।







