সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধকে সামনে রেখে বড় প্রশাসনিক ঘোষণা রাজ্য সরকারের। বুধবার থেকে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে ‘পুশব্যাক’ নীতি কার্যকর করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করলেন— বৈধ নাগরিক ও আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়ায় থাকা মানুষদের এই পদক্ষেপের আওতায় আনা হবে না।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা বাস্তবায়নের বিষয়ে আগেই রাজ্যকে জানানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেই কাঠামো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ায় শনাক্ত করা হবে, তাঁদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাজ্য পুলিশের ভূমিকা হবে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রোটোকল মেনেই সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনও ব্যবস্থা বিদ্যমান আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই করা হবে।
এদিন বাংলাদেশ থেকে আগত নির্যাতিত সংখ্যালঘু ও নাগরিকত্ব সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা প্রযোজ্য নাগরিকত্ব আইনের আওতায় পড়েন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ভারতে প্রবেশ করা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের যোগ্যতার মধ্যে থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রশাসন আইনানুগ প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবে।
তবে নাগরিকত্ব, অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলি আইনগতভাবে সংবেদনশীল এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, নথি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকবে— বাস্তবে এই নীতির প্রয়োগ কীভাবে হয় এবং তার প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে গড়ে ওঠে।



