নজরবন্দি ব্যুরোঃ বেকারত্ব কমেছে ৪০ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি উড়িয়ে রাজপথে হাজারো চাকরিপ্রার্থী। ২০১৭ সালে পরীক্ষা হয়েছিল তারপর ওয়েটিং লিস্টে নাম! এখন ২০২০ মাঝে কেটে গেছে ৩টে বছর। বাড়ছে বয়েস, অন্ন সংস্থান বলতে দিন মজুরের কাজ আর টিউশন পড়ানো! ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ এই তিন বছর ধরে সহস্রাধিক যুবক যুবতী গ্রুপ ডি পদে কাজ পাওয়ার জন্যে যখন শিক্ষামন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তখন জানা যাচ্ছে শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নিয়োগ করা হয়নি!
আরও পড়ুনঃ বেকারত্বের হার কমেছে ৪০ শতাংশ! চাকরিপ্রার্থীদের হাহাকার উড়িয়ে ঘোষণা মমতার।


বেকারত্ব কমেছে ৪০ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের দিনেই গ্রুপ ডি ওয়েটিং চাকরি প্রার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন নদীয়া জেলাতে। অভিযোগ, চাকরির জন্য শূন্য পদ থাকা সত্বেও তিন বছর ওয়েটিং থেকেও চাকরি টা হবে কিনা তার জন্য চাতকের দৃষ্টির মতো রাজ্য সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। তারা কখন আমাদের দিকে দয়ার দৃষ্টি তে তাকাবে,আমাদের চাকরির পাকা খবরটা দেবে। তাঁদের বক্তব্য, আমরা এমন কি অন্যায় করেছি, যে এত বড়ো শাস্তি আমাদের কে দেওয়া হচ্ছে! আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের চোখ রাঙ্গানি,লাঠি খাওয়া,হাজতবাস কোনটাই বাকি নেই। এমন কি group D অফিসে ডেপুটেশন জমা দিতে গেলে আমাদের কে দেখে তাদের হাসাহাসি আরো অবাক করেছে। তাহলে আমাদের শেষ পরিনতি কি? মানষিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেছি কমবেশি আমরা সকলেই।”
তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছিল ষাট হাজার পদে। ২০১৫ সালে তেশট্টি টি দপ্তর থেকে পচিশ হাজার শূন্যপদের তালিকা(বর্তমানে অনেক বেশি) রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জমা পড়ে। স্বাস্থ্যদপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রচুর শূন্যপদ রয়েছে। এদিকে যোগ্য তালিকায় আমাদের নাম থাকা সত্বেও, আজও আমরা বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেলাম না। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে করজোড়ে আবেদন করেন নিয়োগ করার জন্যে।
একই দিনে মুখ্যমন্ত্রী ট্যুইট করে দাবি করেছেন, বেকারত্বের হার কমেছে ৪০ শতাংশ। আজ আন্তর্জাতিক যুব দিবস। তাই বাংলার যুবক-যুবতীদের সেই কর্ম সাথী প্রকল্পের কথা স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী টুইটারে বাংলার যুবক-যুবতীদের উজ্জীবিত করেন। তিনি টুইটারে লেখেন, “আজ ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ডে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার যুবকদের ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক একটি নতুন স্কিম ‘কর্ম সাথী’ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। এক লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী কে স্বাবলম্বী করতে লোন ও ভর্তুকি সরবরাহ করা হবে।”


তিনি লেখেন, “যখন ভারতের বেকারত্বের হার ২৪ শতাংশ বেড়েছে; তখন পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে। বাংলা যুবক-যুবতীরা ভারতের হয়ে বহু জায়গায় নেতৃত্ব
দিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে আরও কাজ চালিয়ে যাবে। আমরা আমাদের যুবদের জন্য গর্বিত। তারা ভবিষ্যৎ। নতুন প্রজন্ম আমাদের জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যুব রা মেধাবী, দক্ষ ও পরিশ্রমী। তাদের আজকের স্বপ্নগুলি আগামীকাল বাস্তবে পরিণত হবে।”







