নজরবন্দি ব্যুরোঃ বেকারত্বের হার কমেছে ৪০ শতাংশ। চাকরিপ্রার্থীদের হাহাকার উড়িয়ে ঘোষণা মমতার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পের মতোই গত মার্চ মাসে ‘কর্ম সাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। আজ আন্তর্জাতিক যুব দিবস। তাই বাংলার যুবক-যুবতীদের সেই কর্ম সাথী প্রকল্পের কথা স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী টুইটারে বাংলার যুবক-যুবতীদের উজ্জীবিত করেন। তিনি টুইটারে লেখেন, “আজ ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ডে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার যুবকদের ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক একটি নতুন স্কিম ‘কর্ম সাথী’ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। এক লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী কে স্বাবলম্বী করতে লোন ও ভর্তুকি সরবরাহ করা হবে।”
আরও পড়ুনঃ ডিসেম্বরে টিকা মিলবে ভারতে। ২০ টি দেশ থেকে ভ্যাকসিনের অর্ডার পেল রাশিয়া।


দ্বিতীয় টুইটে তিনি লেখেন, “যখন ভারতের বেকারত্বের হার ২৪ শতাংশ বেড়েছে; তখন পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে। বাংলা যুবক-যুবতীরা ভারতের হয়ে বহু জায়গায় নেতৃত্ব
দিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে আরও কাজ চালিয়ে যাবে।”
সর্বশেষ টুইটে তিনি লেখেন “আমরা আমাদের যুবদের জন্য গর্বিত। তারা ভবিষ্যৎ। নতুন প্রজন্ম আমাদের জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যুব রা মেধাবী, দক্ষ ও পরিশ্রমী। তাদের আজকের স্বপ্নগুলি আগামীকাল বাস্তবে পরিণত হবে।”
বেকারত্বের হার কমেছে ৪০ শতাংশ! চাকরিপ্রার্থীদের হাহাকার উড়িয়ে ঘোষণা মমতার। উল্লেখ্য কদিন আগে ২১ জুলাই দলীয় ভার্চুয়াল সভা থেকেও মুখ্যমন্ত্রী একই দাবি করেছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন এই করোনা আবহেও রাজ্যে হ্রাসমান বেকারত্ব। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কথা উড়িয়ে তোপ দেগেছিলেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকুরিপ্রার্থী। ভার্চুয়াল সভার কমেন্ট বক্স ভরে গিয়েছিল বঞ্চনার আর্তনাদে। কারা ছিলেন না সেখানে! উচ্চ প্রাথমিক, প্রাথমিক, গ্রুপ ডি সহ সর্বস্তরের চাকুরি প্রার্থীরা। উচ্চপ্রাথমিক চাকরিপ্রার্থীর করা একটি মন্তব্য আজও জ্বলজ্বল করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল সভার ভিডিও বক্সে।
এক চাকরিপ্রার্থী লিখেছিলেন, “স্কুল সার্ভিস কমিশন দীর্ঘ ৭ বছর আপার প্রাইমারি নিয়োগ সম্পন্ন না করে হাজার হাজার ছেলে মেয়ের জীবনকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিচ্ছে। মাননীয়ার নিকট বিনীত অনুরোধ আমাদেরকে এই চূড়ান্ত পথ যেন বেছে না নিতে হয় তার ব্যবস্থা করুন। ভালো থাকবেন।” অন্য আর একটি মন্তব্যে ছিল সরকার কে কিছুটা প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি। মন্তব্যে লেখা ছিল, “দিদি প্রণাম নেবেন,আজ যে এই যৌবন নিয়ে সামনে এগোনোর একটা প্রয়াস চলছে সেটা খুবই আশাব্যঞ্জক। আমি তাদের ই একজন, MSc Bed, পাস করে স্কুলে শিক্ষকতার স্বপ্ন দেখেছি।


এবং আমাদের এই সংখ্যাটা নিতান্ত কম নয়, ২০–২৫ লাখ এবং আমাদের সাথে জড়িত বা নির্ভরশীল আমাদের পরিবার এর সদস্য যোগ করলে সংখ্যাটা ১.৫ – ২ কোটির কম নয়। কিন্তু বিগত ১০ বছরে আমরা একবার ও ssc তে বসার সুযোগ পাইনি। আজকে এই যুব সম্প্রদায় প্রায় ধ্বংসের দিকে। তাই আগামী তে এই যুব সাম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে চলার জন্য তাদের শিক্ষকতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হবে। এ জন্য নতুন SLST এর পরীক্ষা নিয়ে ভোটের আগে নিয়োগ সম্পন্ন করলে এই যুব সমাজ আবারও আস্থা ফিরে পাবে, এবং সমাজ কে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দয়া করে এই শিক্ষিত যুব সমাজের কথা টা ভুলে যাবেন না, এরা সংখ্যায় খুব একটা নগণ্য নয়।”







