নজরবন্দি ব্যুরোঃ তিন বছর ধরে চলছে লাগাতার আন্দোলন। তিন দফা মিলিয়ে মঙ্গলবার তা পার করেছে ৩৬৫ দিন। ৩৬৫ দিনের প্রতীক্ষায় শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নিয়োগ নিয়ে সরকারের এখনও অবধি কোনও ভূমিকা দেখা যায়নি। বরং মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর তরফে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এখন সমস্ত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে আন্দোলন জারি রেখেছেন হবু শিক্ষকরা।
আরও পড়ুনঃ Russia-Ukraine War: চিনের থেকে বিশেষ ড্রোন চাইছে রাশিয়া, ইউরোপকে সতর্ক করল আমেরিকা
হবু শিক্ষকদের বক্তব্য,প্রথম দফায় ডাক পেলেও স্কুল সার্ভিস কমিশন নম্বর ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেনি৷
১:১.৪ অনুপাতে নিয়োগের গেজেটকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। মেধাতালিকায় সামনের দিকে নাম থাকলেও নিয়োগ পাননি বহু প্রার্থী। বরং তালিকায় নাম জুড়েছে মেধা তালিকায় পিছনে থাকা প্রার্থীদের৷ অভিযোগ, অবৈধভাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
এই অভিযোগে২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রেস ক্লাবের সামনে ২৯ দিন ধরে অনশন কর্মসুচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন হবু শিক্ষকরা। সেখানে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০১৯ এর নির্বাচনের পরেই নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

সেই অভিযোগ তুলে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের তিন বার বৃহত্তম অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন করতে হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে প্রেসক্লাবের সামনে ২৯ দিনের অনশন, ২০২১সালের জানুয়ারি থেকে সেন্ট্রাল পার্কের ৫ নম্বর গেটের সামনে ১৮৭ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন।
এরপর গত বছরের ৮ ই অক্টোবর থেকে ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্ণা। যা আজ ১৪৯ দিনে পড়েছে। সেইসঙ্গে চলছে আমরণ অনশন। অসুস্থ অবস্থায় অনেকে হাসপাতালে ভর্তি। মেধাতালিকায় না থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগের ক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। বলছেন আন্দোলনকারীরা।
৩৬৫ দিনের প্রতীক্ষায় শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি, স্বচ্ছ নিয়োগ চাইছেন হবু শিক্ষকরা

স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, মেধাতালিকায় শেষের দিকে নাম থাকলেও চাকরী একই সঙ্গে গেজেট রেশিও মেনে নিয়োগের দাবীতে সরব হয়েছেন চাকরীপ্রার্থীরা। যতদিন অবধি স্বচ্ছ নিয়োগ না হবে ততদিন অবধি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আন্দোলনকারী হবু শিক্ষকদের।



