খড়দহে তোলাবাজি, হুমকি ও বেআইনি জমি কারবারের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে বন্দিপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রসেনজিৎ সাহা। তৃণমূল সরকারের পতনের পরই সক্রিয় হয় পুলিশ। আর তারপরেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে আসে তাঁর বিলাসবহুল ‘পি গ্যালাক্সি হাউস’, যা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ছিল নানা বিতর্ক।
বৃহস্পতিবার রহড়া থানার পুলিশ প্রসেনজিৎ সাহাকে গ্রেপ্তার করে বারাকপুর আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি নেয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, উপপ্রধান পদে থাকার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাপট দেখাতেন তিনি। তোলাবাজি, হুমকি এবং প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারের বিস্তীর্ণ জলাজমি বেআইনিভাবে ভরাট করে মোটা দামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছিল প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবকে হাতিয়ার করেই এলাকায় নিজের আধিপত্য কায়েম করেছিলেন তিনি।
বিধানসভা ভোটের আগেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি শুরু হয়েছিল। গত ২৯ এপ্রিল খড়দহে ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর বাড়ি ‘পি গ্যালাক্সি হাউস’-এ তল্লাশি চালায়। কিন্তু তখন প্রসেনজিৎ গা-ঢাকা দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর থেকেই তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘পি গ্যালাক্সি হাউস’। স্থানীয়দের দাবি, ওই বাড়ির জৌলুস যে কোনও বিলাসবহুল হোটেলকেও টেক্কা দিতে পারে। বিশাল প্রবেশপথ, দামি কাঠের আসবাব, অভিজাত অন্দরসজ্জা, বিলাসবহুল শোবার ঘর— সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর কাছে সেটি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল কৌতূহলের বিষয়।
স্থানীয় মহলের একাংশের অভিযোগ, তোলাবাজি ও বেআইনি কারবারের টাকাতেই ধাপে ধাপে এই প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করা হয়েছিল। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কখনও মুখ খোলেননি প্রসেনজিৎ সাহা।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনের কড়া অবস্থানের বার্তা আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার খড়দহের এই গ্রেপ্তারিকে সেই অভিযানেরই অংশ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আগামী দিনে এ ধরনের আরও অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



