রাজ্য জুড়ে ১০০টি নতুন সিনেমা হল তৈরি করছেন প্রসেনজিৎ, বাংলা ছবির ভালোদিন আসছে?

প্রসেনজিতের সিনেমা হল প্রকল্পে খুশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছবে বাংলা সিনেমা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলা সিনেমা শিল্পকে আরও বিস্তৃত করতে এবার অভিনব উদ্যোগ নিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। টলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা এবার নামছেন ‘সিনেমা হল ব্যবসায়’। একেবারে গ্রামবাংলা ও প্রান্তিক এলাকায় তিনি তৈরি করছেন প্রায় ১০০টি ছোট সিনেমা হল, যেখানে থাকবে ৪০-৫০ জনের বসার ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর কথায়, “প্রসেনজিৎ একটি সুন্দর মডেল তৈরি করেছে। অফিসাররা দেখে এসে আমাকে জানিয়েছে। আমরাও দেখে খুশি হয়েছি।”

বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সিনেমা দেখার সুযোগ

এই মডেল অনুযায়ী ছোট ছোট হল তৈরি হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ সহজেই সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন। এতে যেমন বাংলার চলচ্চিত্র শিল্প ছড়িয়ে পড়বে, তেমনই তৈরি হবে স্থানীয় কর্মসংস্থান। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই প্রজেক্ট সফল হলে রাজ্যের নানা অঞ্চলে সিনেমা দেখার অভ্যাস ফিরবে, বাংলা ছবি পাবে নতুন বাজার।

মহানায়ক সম্মান মঞ্চে ঘোষণা

ধনধান্য স্টেডিয়ামে আয়োজিত মহানায়ক সম্মান ২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। উপস্থিত ছিলেন টলিউডের বহু শিল্পী, পরিচালক, সুরকার। প্রসেনজিতের পরিকল্পনা শুনে অনেকে হতচকিত হয়ে যান, কারণ এতদিন তিনি মূলত অভিনয় ও প্রযোজনার সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন।

কর্মসংস্থান ও বাজার তৈরির সম্ভাবনা

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই হলে ছবি দেখানো হলে শুধু বিনোদনই নয়, চাকরির সুযোগও তৈরি হবে। পাশাপাশি বাংলা সিনেমা ও সিরিয়ালের বাজার বাড়বে।” পাশাপাশি তিনি জানান, এই প্রকল্পে সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হতে পারে।

ধারাবাহিকের বিষয়বস্তু নিয়ে উদ্বেগ

তবে একই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী বাংলা টেলিভিশনের ধারাবাহিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, “সিরিয়ালে প্রতিদিন ঝগড়া, বিষ দেওয়া, খুনোখুনি দেখানো হচ্ছে। এতে সমাজের উপর খারাপ প্রভাব পড়ছে। বাচ্চারা ভুল শিখছে, এমনকি অনেকে আত্মহত্যার পথেও যাচ্ছেন।” তিনি অনুরোধ করেন, নির্মাতারা যেন গঠনমূলক ও ইতিবাচক কনটেন্ট তৈরি করেন।

সম্মানিত হলেন টলিউডের বিশিষ্টরা

এদিন ‘মহানায়ক শ্রেষ্ঠ সম্মান’ পেলেন পরিচালক গৌতম ঘোষ। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে পদ্মানদীর মাঝি, অন্তর্জলী যাত্রা, পার ইত্যাদি। অভিনেত্রী গার্গী রায়চৌধুরী পেয়েছেন অভিনয়ের জন্য মহানায়ক সম্মান। এছাড়াও সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তীরূপঙ্কর বাগচি, মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডু, এবং প্রোডাকশন ডিজাইনার আনন্দ আঢ্য এই সম্মাননা পান।

গানে মাতলেন মঞ্চ

অনুষ্ঠানে গান গেয়ে দর্শকদের মন জয় করেন নচিকেতা চক্রবর্তী, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, জোজো, রূপঙ্কর, এমনকি মঞ্চে গলা মেলান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও, শিল্পমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন-এর সঙ্গে।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সিনেমা হল প্রকল্প নিঃসন্দেহে বাংলা সিনেমার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। শুধু বিনোদন নয়, এই উদ্যোগ রাজ্যের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ ও উৎসাহ এই যাত্রাকে আরও দৃঢ় করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর