বেসরকারিকরণের কুফল নিয়ে ফের বিতর্ক। শুধু গত পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার লক্ষাধিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। লোকসভায় এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই সেই তথ্য স্বীকার করেছে। ফলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বেসরকারিকরণ নীতি।
রেল, বিমান, কয়লা, এমনকি জীবনবীমা সংস্থা LIC— প্রায় সব ক্ষেত্রেই গত কয়েক বছরে বেসরকারিকরণের পথে হেঁটেছে কেন্দ্র। এমনকি সেনার অধীনে থাকা সৈনিক স্কুলগুলিও বাদ যায়নি। ইতিমধ্যেই একাধিক স্কুল PPP মডেলে (Public Private Partnership) গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে সরকারি কর্মীদের উপর কাজের চাপ যেমন বেড়েছে, তেমনই চাকরি হারানোর আশঙ্কাও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।


দ্য টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার লোকসভায় দেওয়া এক লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী বিএল বর্মা জানিয়েছেন, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মিত কর্মচারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯.২ লক্ষ। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮.১২ লক্ষে। অর্থাৎ, এই পাঁচ বছরে প্রায় ১.১ লক্ষ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
তবে এর পাশাপাশি কেন্দ্র দাবি করেছে, একই সময়ে অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) কর্মীর সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-২০ সালে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ১.৯৯ লক্ষ, ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.১৩ লক্ষ। কেরলের সিপিএম সাংসদ সচিতানন্থমের প্রশ্নের জবাবে এই পরিসংখ্যান সামনে এনেছে কেন্দ্র।
বেসরকারিকরণের কুফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, মোদি সরকার ইচ্ছে করেই লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রি করছে, যাতে রাজকোষ ভরানো যায়। কেন সরকারি সংস্থাগুলিকে শক্তিশালী না করে বিক্রির পথে হাঁটা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।


অন্যদিকে কেন্দ্রের যুক্তি, কেবলমাত্র রুগ্ন সংস্থাগুলিকেই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্থাগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে কর্মসংস্থান আরও কমবে এবং সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব পড়বে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারিকরণের ফলে সরকারের আর্থিক দায় কমলেও চাকরি হারানোই প্রধান সমস্যা হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে, যার ফলে কর্মীদের স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
সামগ্রিকভাবে, বেসরকারিকরণের কুফল এখন দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কর্মসংস্থান হ্রাস, কাজের চাপ বৃদ্ধি এবং সরকারি খাতে স্থায়িত্ব কমে যাওয়া— এই তিনটি দিক সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।







