নজরবন্দি ব্যুরোঃ মন্ত্রী প্রভাব খাটিয়ে মেয়েকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন শিক্ষকতার। মেধাতালিকায় ব্যাপক কারচুপি করে সেই কাজ করে দিয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। এখন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ের চাকরি চলে গেছে। হাইকোর্টের নির্দেশে বেতনে প্রাপ্ত অর্থের এক কিস্তি টাকা ফেরতও দিয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন হল যারা ঘুষ খেলেন? তাঁরা টাকা ফেরত দেবেন না? এই প্রশ্ন যখন ঘুরছে তখনই একাধিক নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষক নিয়োগে চরম দুর্নীতি, পর্ষদ সভাপতিকে সরানোর নির্দেশ হাই কোর্টের


শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি পর্ষদের তরফে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। এই নথির খতিয়ে দেখে আদালতের মনে হয়েছে, এই সমস্ত নথি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারপরেই আজ পর্ষদ সভাপতিকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। মাণিক ভট্টাচার্যকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামীকাল কাল দুপুর ২টোর মধ্যে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। নতুন সভাপতি পদে নিযুক্তি না হওয়া অবধি সভাপতির পদ সামলাবেন সচিব। এই মুহুর্তে পর্ষদের সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচি তিনি দায়িত্ব নেবেন।

অন্যদিকে টেট নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেটে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা হিসাবে চাকরিতে যোগদানকারী প্রার্থীদের সব আসল তথ্য সহ এই সংক্রান্ত রেকর্ড ও ফাইল চেয়ে পাঠিয়েছে আদালত। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে সব জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্ষদের চেয়ারম্যানদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশ।



প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেই মতো টেটের পরীক্ষা হয় ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর। ফলপ্রকাশ হয় ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে। ওই বছরই প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। পরের বছর অর্থাৎ, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। এই নিয়োগে প্রায় ২৩ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৪২ হাজার প্রার্থীকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
৪২ হাজারে বেনোজল কত? ২০১৪ টেটে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের নথি তলব হাই কোর্টের!

এদিকে, শুরু হয়েছে হাইকোর্টের নজরদারিতে সিট গঠন করে সিবিআই তদন্ত। শোনা যাচ্ছে প্রাথমিকে চাকরি হারানোর তালিকা আরও লম্বা হতে চলেছে। বেলাইনে ঘুষ দিয়ে নিয়োগ পেয়ে চাকরি হারাতে চলেছেন বহু ‘শিক্ষক’। এই দেশের আইন বলে, ঘুষ খাওয়া এবং দেওয়া দুটোই অপরাধ। ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়ে এখন যাঁদের চাকরি চলে যাচ্ছে তাঁদের ফেরত দিতে হচ্ছে টাকা। কিন্তু যারা ঘুষ খেয়েছেন, তাঁদের শাস্তি কি হবে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।







