দুর্গাপুরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য রাজ্যপালের

দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করেই রাজ্যপালের মন্তব্য— “বাংলার মানুষ রাষ্ট্রপতি শাসন চাইছেন।” শাসক-বিরোধী উভয় শিবিরেই শুরু রাজনৈতিক তরজা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করে ফের রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপালের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য— “বাংলার মানুষ রাষ্ট্রপতি শাসন চাইছেন।” তাঁর এই বক্তব্যেই নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে।

দুর্গাপুরে গিয়ে রাজ্যপালের মন্তব্যে চাঞ্চল্য
হাওড়া থেকে রওনা হয়ে দুপুর আড়াইটার সময় দুর্গাপুর পৌঁছন রাজ্যপাল। স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। কথা বলেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও। সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলেন, “আমি জানি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। তবে আমি প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলব না। তবে বাংলার মানুষ রাষ্ট্রপতি শাসন চাইছেন— এটাই বাস্তব।”

রাজ্যপালের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা আক্রমণ
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যপাল অত্যন্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তি। কিন্তু আমার মনে হয় বাংলার মানুষ রাষ্ট্রপতি শাসন মেনে নেবেন না। উপরন্তু পার্লামেন্টে বিজেপির দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাই এটা কেবল রাজনৈতিক বার্তা।”

অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, “সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপালের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। বাংলায় যেভাবে একের পর এক অপরাধ ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, তাতে প্রশাসনের ব্যর্থতা স্পষ্ট। রাজ্যপালের মন্তব্য সেই বাস্তবতার প্রতিফলন।”

আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রপতি শাসন বিতর্কে উত্তপ্ত রাজ্যরাজনীতি
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপাল আগেও সরব হয়েছেন। সন্দেশখালি কাণ্ডের সময়ও তিনি দিল্লি গিয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন কেন্দ্রের কাছে। এবার দুর্গাপুরে অকুস্থলে দাঁড়িয়ে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজ্যজুড়ে পর পর ধর্ষণ ও অপরাধের ঘটনা নিয়ে বিরোধীরা যেমন রাজ্য সরকারকে skas টার্গেট করছে, তেমনই শাসক দল পাল্টা অভিযোগ তুলছে রাজ্যপালের “রাজনৈতিক সক্রিয়তা” নিয়ে।

সিপিএমের অবস্থান ভিন্ন
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা বলে আদতে তৃণমূলকেই সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন। বিজেপি-তৃণমূলের এই পারস্পরিক নাটক থেকে মানুষের মন ঘোলাটে করা হচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতামত:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যপালের এই মন্তব্য শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও গভীর অর্থ বহন করে। বর্তমানে রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা রয়েছেন এবং SIR (State Investigation Report) প্রস্তুতি চলছে। এই পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক প্রধানের এমন মন্তব্য এক ধরনের চাপের ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।


দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে। তার মধ্যেই রাজ্যপালের রাষ্ট্রপতি শাসন সংক্রান্ত মন্তব্যে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। কেউ একে প্রশাসনিক উদ্বেগ বলে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বার্তা। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই— রাজ্যপালের বক্তব্যে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত