রাজনৈতিক দলবদল কি ব্যক্তিগত সম্পর্কেও ঝড় তোলে? ডায়মন্ড হারবারের তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমান তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নানা জল্পনা এবার পৌঁছে গেল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে। স্ত্রী শিরিন সুলতানা নাকি স্বামীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে ঘর ছেড়েছেন—এমন দাবিই ভাইরাল পোস্টে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তবে সমস্ত জল্পনাকে সরাসরি ‘রটনা’ বলে উড়িয়ে দিলেন শিরিন নিজেই।
সপ্তাহের শুরু থেকেই বঙ্গ রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন সিপিএম নেতা প্রতীক উর রহমান। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি প্রাথমিক সদস্যপদ-সহ জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। সেই সময় থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়—তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন কি না।
অবশেষে শনিবার আমতলার তৃণমূল কার্যালয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন প্রতীক উর। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে এই যোগদানকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছে। দলবদলের পরই সিপিএম তাঁকে বহিষ্কার করে।
এরপর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় শুরু হয় নতুন বিতর্ক। একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিনের বামপন্থী রাজনীতির সহযাত্রী এবং জীবনসঙ্গিনী শিরিন সুলতানা স্বামীর এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট। এমনকি দাম্পত্য অশান্তির জেরে তিনি নাকি বাড়ি ছেড়ে বাপেরবাড়ি চলে গিয়েছেন বলেও প্রচার হতে থাকে।
প্রসঙ্গত, ছাত্রজীবন থেকেই প্রতীক ও শিরিন একসঙ্গে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই কারণেই রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপোড়েনের গল্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভারচুয়াল রাজনৈতিক মহলে।
তবে এই সমস্ত জল্পনায় স্পষ্ট ইতি টানলেন শিরিন সুলতানা। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তিনি জানান, “এসবই রটনা। ইচ্ছে করে এসব কথা ছড়ানো হচ্ছে। যাঁরা এসব করছে, তাঁরা আমাদের ভালো চায় না।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে ছড়ানো গুঞ্জনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



