পোস্তায় গদির অফিসে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল কলকাতায়। বুধবার রাতে কটন স্ট্রিটের একটি গদিতে মুখ ঢাকা চার যুবক ঢুকে মালিক ও কর্মীদের মাথায় বন্দুক ঠেকায় বলে অভিযোগ। এরপর সিন্দুক থেকে নগদ টাকা বের করে ব্যাগে ভরে পালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার তদন্তে নেমেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ (Kolkata Police Detective Department)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে গদিতে ডাকাতি হয়েছে, সেখানে ওই দিনই এক কোটিরও বেশি টাকা এসে পৌঁছেছিল। সেই বিপুল পরিমাণ নগদ সিন্দুকে রাখা ছিল। রাতের দিকে আচমকাই চার যুবক সেখানে ঢোকে। প্রত্যেকের মুখ কাপড়ে ঢাকা ছিল বলে কর্মীদের দাবি।
অভিযোগ, গদিতে ঢুকেই দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্র বার করে মালিক এবং কর্মচারীদের ভয় দেখায়। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে কাউকে বাধা দিতে নিষেধ করা হয়। এরপর দলের দুই সদস্য সিন্দুক খুলে সেখান থেকে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বের করে নেয়।
নগদ টাকা একটি ব্যাগে ভরে দ্রুত গদি থেকে বেরিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। যাওয়ার সময় গুলি চালানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আতঙ্কে প্রথমে কেউ বাধা দেওয়ার সাহস না পেলেও ডাকাতরা এলাকা ছাড়তেই কর্মীরা চিৎকার করে তাঁদের পিছু নেন।
চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারাও ঘটনাটি টের পান। পোস্তার ব্যস্ত এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এবং কর্মীরা মিলে দুষ্কৃতীদের ধরার চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যে এক জনকে ধরে ফেলাও সম্ভব হয়েছিল বলে দাবি।
তবে সঙ্গীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বাকিরা। ফলে শেষ পর্যন্ত ধৃত সন্দেহভাজনকেও নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ডাকাতদল। এরপর খবর দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তে নামে লালবাজারের গোয়েন্দারাও। গদির মালিক এবং সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঠিক কী ভাবে এত বিপুল পরিমাণ টাকা গদিতে পৌঁছল এবং সেই খবর দুষ্কৃতীদের কাছে কী ভাবে গেল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের কাছে গদির মালিক দাবি করেছেন, ডাকাতির আগে দুপুরে কয়েকজন সন্দেহভাজন ওই এলাকায় এসেছিল। তাঁর অনুমান, দুপুরের সেই গতিবিধি রেইকির অংশ হতে পারে। পরে রাতেই একই দল পরিকল্পনা মাফিক গদিতে ঢুকে ডাকাতি করে বলে সন্দেহ।
তদন্তকারীদের অন্যতম নজর এখন পরিচিত কারও যোগসূত্রের দিকে। এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ওই গদিতে রয়েছে—এই তথ্য বাইরে থেকে জানা সম্ভব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গদির কর্মী বা পরিচিত মহলের কেউ দুষ্কৃতীদের তথ্য দিয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
ইতিমধ্যেই গদির ভিতরের এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পোস্তার কটন স্ট্রিট এবং সংলগ্ন রাস্তাগুলির ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ডাকাতদের যাতায়াতের পথ চিহ্নিত করে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বুধবার রাতের এই দুঃসাহসিক ডাকাতির পর পোস্তা এলাকায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা থাকা একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কী ভাবে চারজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ল এবং কী ভাবে তারা পালিয়ে গেল, তার উত্তর খুঁজছে কলকাতা পুলিশ। এখন তদন্তকারীদের নজর সিসিটিভি ফুটেজ, গদির কর্মীদের বয়ান এবং ডাকাতদের সম্ভাব্য পরিচিত যোগসূত্রের দিকে।



