মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৯-এ পৌঁছেছে। এই ঘটনায় পূর্বতন সরকারের অবহেলা ও উদাসীনতাকেই কাঠগড়ায় তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে শহর ও রাজ্যের পরিকাঠামোগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যথাযথ নজর দেওয়া হয়নি। বাধ্যতামূলক অগ্নিনির্বাপণ বিধি কার্যকর না হওয়ায় এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। আবাসিকদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর হোটেলের ভিতরে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে যাওয়ার পর কোন পথে বেরোতে হবে, তা নিয়েও অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের সময়ে হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি যথাযথ ভাবে কার্যকর হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এই অব্যবস্থার ফলেই বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
শুভেন্দুর কথায়, শহর ও রাজ্যের পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে অতীতে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করেই হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল যেন কার্যত ‘জতুগৃহ’-এ পরিণত হয়েছিল।
অগ্নিকাণ্ডের পর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে। হোটেলের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা কী ভাবে অনুমোদন পেল, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসি (CESC)-র অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিদর্শন এবং ফায়ার অডিট যথাযথ ভাবে কার্যকর করা হয়নি। তাঁর দাবি, বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
এখন অবশ্য সেই পুরনো অব্যবস্থার প্রভাব কাটাতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, অতীতে যে নিরাপত্তা মানদণ্ডগুলি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, সেগুলি বাস্তবে প্রয়োগ করাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে আহতদের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েও প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আহতদের যাতে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে এই ঘটনায় হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক সংযোগ, অনুমোদন এবং নিয়মিত ফায়ার অডিট—সবকিছু নিয়েই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। তদন্তে ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত এবং নিরাপত্তা বিধি কোথায় কোথায় লঙ্ঘিত হয়েছিল, তা স্পষ্ট হওয়ার পরেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আসবে। তার আগে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।



