মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, বার বার সমনেও আদালতে হাজিরা না দেওয়ার অভিযোগ

ভারতীয় সেনা, জওয়ান ও অমিত শাহকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে মামলায় বার বার সমন পেয়েও আদালতে হাজির না হওয়ার অভিযোগ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে। বুধবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতীয় সেনা, জওয়ান ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে বড় আইনি ধাক্কা কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের। কৃষ্ণনগর আদালতে চলা মামলায় একাধিক বার সমন পাঠানো সত্ত্বেও তিনি সশরীরে হাজির হননি বলে অভিযোগ। সেই কারণেই বুধবার জেএম তৃতীয় আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলাকারী পক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই মামলায় আদালতে মহুয়ার ব্যক্তিগত হাজিরার নির্দেশ ছিল। একাধিক নির্দিষ্ট তারিখে সমন পাঠানো হলেও সাংসদ আদালতে উপস্থিত হননি। শেষ বারের জন্য সশরীরে হাজিরার দিন ধার্য হওয়ার পরেও তিনি না আসায় আদালত এ বার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চয়ন নন্দী মহুয়ার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর হয়ে মামলাটি পরিচালনা করছেন আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস। মামলাকারী পক্ষের অভিযোগ, মহিলাদের তুলসীমালা, বোরখা ও হিজাব পরানো, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), ভারতীয় সেনা ও জওয়ানদের নিয়ে মহুয়ার একাধিক মন্তব্য আপত্তিকর ও অপমানজনক ছিল।

আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাসের বক্তব্য, মামলায় আগেও একাধিক বার সমন জারি হয়েছিল। কৃষ্ণনগর আদালতে মহুয়া মৈত্রের সশরীরে হাজিরার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও তারিখেই তিনি আদালতে হাজির হননি বলে দাবি মামলাকারী পক্ষের। সেই কারণেই শেষ হাজিরার দিনে বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এই মামলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মামলায় নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ণ করা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ বা দ্বন্দ্ব উস্কে দেওয়া, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, ভয় দেখানো এবং ঘৃণাভাষণের মতো অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।

মামলাকারী পক্ষের অভিযোগের পরিধি শুধু সেনাবাহিনীকে ঘিরে মন্তব্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়েও মহুয়ার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি মহিলাদের পোশাক ও ধর্মীয় পরিচয় সংক্রান্ত তাঁর কিছু মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে মামলায়।

আদালতের এই নির্দেশে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও আদালতের নির্দেশের পাশাপাশি মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর মহুয়া কী আইনি পদক্ষেপ করেন, সেটিই এখন নজরে।

এর আগে অন্য একটি মামলায় আদালতের নির্দেশে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় হাজিরা দিতে হয়েছিল মহুয়া মৈত্রকে। সেই সময় কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে রাতে থাকার ঘটনায়ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মহুয়ার অভিযোগ ছিল, সেখানে তাঁকে হেনস্থার মুখে পড়তে হয় এবং প্রশাসনের তরফে রাতে সার্কিট হাউস ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

সেই ঘটনার সময় সার্কিট হাউসের বাইরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। মহুয়া সেখান থেকেই সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিয়ো প্রকাশ করে নিজের বক্তব্য জানিয়েছিলেন। পরে গোটা ঘটনা জানিয়ে লোকসভার স্পিকারকেও চিঠি দেন তিনি।

এখন কৃষ্ণনগর আদালতের এই গ্রেফতারি পরোয়ানা মহুয়া মৈত্রের জন্য নতুন আইনি চাপ তৈরি করল। তবে মামলাটির পরবর্তী শুনানি এবং আদালতে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন