টুর্নামেন্ট বদলায়, মাঠ বদলায়— কিন্তু বদলায় না ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের চিরাচরিত চিত্রনাট্য। যুব বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই পরিচিত গল্পই ফিরে এল। বৃষ্টি, রাজনৈতিক উত্তাপ আর মাঠের টানটান লড়াইয়ের মাঝেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হল ভারত। ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে ১৮ রানে বাংলাদেশকে হারিয়ে টিম ইন্ডিয়া আবার প্রমাণ করল, চাপের মুহূর্তে কারা বেশি স্থির থাকতে পারে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এই মুহূর্তে শুধুই ক্রিকেটীয় নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মুস্তাফিজুর রহমান বিতর্ক, বাংলাদেশের ভারতে খেলতে না আসার অনীহা— সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের পারদ বেশ কিছুদিন ধরেই চড়া। শনিবার সেই উত্তেজনার ছায়া স্পষ্ট দেখা গেল মাঠেও। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে করমর্দন না হওয়ায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। এই আবহেই যুব বিশ্বকাপের এই ‘মিনি ডার্বি’ ঘিরে বাড়তি আগ্রহ ছিল দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের।


মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। ওপেনিংয়ে বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে ভর করেই শক্ত ভিত পায় ভারতীয় ইনিংস। ৬৭ বলে ৭২ রানের পরিণত ইনিংস খেলে শুধু দলকে এগিয়ে দেননি, নিজের নামও তুলে ধরেছেন ইতিহাসের পাতায়। যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় বিরাট কোহলিকে ছাপিয়ে গিয়েছেন মাত্র ১৪ বছরের এই কিশোর। বিরাটের ২৮ ম্যাচে করা ৯৭৮ রান পেরিয়ে বৈভব পৌঁছে গিয়েছেন ১,০২৬ রানে— তাও মাত্র ২০ ইনিংসে। বর্তমানে এই তালিকায় তিনি উঠে এসেছেন সপ্তম স্থানে।
বৈভবের রেকর্ডের দিন সমান উজ্জ্বল ছিলেন অভিজ্ঞান কুণ্ডু। আত্মবিশ্বাসী ৮০ রানের ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটিংকে আরও শক্তিশালী করে তোলেন তিনি। দুই ব্যাটারের অর্ধশতরানের উপর ভর করেই নির্ধারিত ওভারে ভারত তোলে ২৩৮ রান— যা বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই ধরা হচ্ছিল।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি বাংলাদেশ। একসময় স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেটে ১০৬ রান উঠে যায়। ম্যাচ তখনও ঝুলে ছিল। কিন্তু আচমকাই দৃশ্যপটে হাজির হয় বৃষ্টি। দীর্ঘক্ষণ খেলা বন্ধ থাকায় পুরোপুরি ছন্দ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। পুনরায় খেলা শুরু হলে ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে ২৯ ওভারে ১৬৫ রানের সংশোধিত লক্ষ্য পায় তারা। চাপের মুখে একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৪৬ রানে।


ফলাফল— ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে ১৮ রানে ভারতের জয়। বর্তমান রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় বাস্তবতায় এই জয় শুধুই পরিসংখ্যান নয়, বরং বার্তা দেওয়ার মতোই তাৎপর্যপূর্ণ।







