রাজ্যের মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ঠ মুখ হিসেবে পরিচিত লীনার পদত্যাগ কার্যত সময়ের অপেক্ষা ছিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তার মধ্যেই রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ ৯ বছরের অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে এবার কি ফের ছোটপর্দার জগতে ফিরবেন জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার? সেই প্রশ্নই এখন টলিপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে কথোপকথনে লীনা জানান, দু’দিন আগেই তিনি ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও সেই ইস্তফা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি বার্তা পাননি তিনি। তাঁর কথায়, “কমিশনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।”


সূত্রের খবর, আগামীকাল কমিশনের অফিসে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানেই আনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগের ঘোষণা করা হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদে টানা ৯ বছরের বেশি থাকা যায় না। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ও গত নয় বছর ধরে এই দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। সেই হিসেবে আগামী জুলাই মাসেই তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি।
সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে বলেও ঘনিষ্ঠ মহলে ইঙ্গিত দিয়েছেন লীনা। তিনি জানান, নিজেকে সামলাতেই বেশ কিছুদিন কারও ফোন ধরেননি।


এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বাংলার রাজনৈতিক ছবিও বদলে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। সেই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লীনার চেয়ারপার্সনের পদ ছাড়া প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছিল।
রাহুলের মৃত্যুর পর থেকেই টলিউডের একাংশ কমিশন থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে সরব হয়েছিল। ফলে একাধিক চাপের মাঝেই শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি।
এবার প্রশ্ন, এরপর কী? আবার কি টেলিভিশনের জগতে ফিরবেন বাংলা ধারাবাহিকের জনপ্রিয় লেখিকা? প্রশ্ন শুনে কিছুটা নীরব থাকার পর লীনার সংক্ষিপ্ত উত্তর, “ফিরলে আপনারা জানতে পারবেন।”
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



