নজরবন্দি ব্যুরোঃ দীপাবলির সঙ্গে জুড়ে রয়েছে রামায়ণ-কথা। প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, রাবণ-বধ করে এবং ১৪ বছর বনবাস শেষে দীপাবলির দিনই ঘরে ফিরেছিলেন সস্ত্রীক রামচন্দ্র। আর শ্রীরামের আগমনের আনন্দে নয়নাভিরাম সাজে সেজে উঠেছিল অযোধ্যা। রাম-সীতা ফেরার আনন্দে লাখো প্রদীপের আলোয় সেজে উঠেছিল সরয়ূর তীর। সেই থেকে অধুনা উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যাতেও দীপাবলি পালনের সূচনা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আপনার এত ভয় কিসের? প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিপ্লব কে খোঁচা তৃণমূলের।
মাত্র কদিন আগে, দিপাবলী উপলক্ষে অযোধ্যায় সরয়ূ নদীর তীরে জ্বলে উঠেছিল লাখ লাখ প্রদীপ। মোট ১২ লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ। এরমধ্যে শুধু সরযূ নদীর তীরেই জ্বালানো হয়েছিল ৯ লক্ষ প্রদীপ। বাকি ৩ লক্ষ বিভিন্ন মন্দিরে। দীপাবলী উপলক্ষ্যে কয়েক বছর ধরেই এই ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে উত্তর প্রদেশ সরকার। কিন্তু এবার প্রকাশ্যে এল গিনেস বুকে নাম তোলা ১২ লক্ষ প্রদীপের তলায় নিদারুণ দারিদ্রের মর্মান্তিক ছবি।
কথায় আছে প্রদীপের তলাতেই থাকে অন্ধকার, সেই প্রবাদ সত্যি হল উত্তরপ্রদেশে। শনিবার প্রদীপ নিভতেই সেই প্রদীপের তেল সংগ্রহ করতে নেমে পড়েন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দারা। কারও হাতে বোতল কারও হাতে ভাঙা মগ। নিভে যাওয়া প্রদীপের বেঁচে যাওয়া তেল সংগ্রহ করে জীবনধারনের নিদারুণ লড়াই। এবার উত্তরপ্রদেশ সরকার ৩৬ হাজার লিটার তেল খরচ করেছিল ১২ লক্ষ প্রদীপ জ্বালাতে। কিন্তু এই রাজ্যের ৩০ শতাংশ মানুষের রান্না করার জন্যে তেল কেনার ক্ষমতাই নেই!
রাজ্যের প্রাক্তন আমলা, আইপিএস সূর্য প্রতাপ সিং এই তেল কুড়নোর ভিডিও পোস্ট করেছে ট্যুইটারে। তিনি ট্যুইটারে লিখেছেন যোগী সরকার ১২ লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়ে রাজ্যের দরিদ্র মানুষদের উপহাস করেছে। এই ৩৬ হাজার লিটার তেল পোড়ানোর পেছনে কোন দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ নভেম্বর দীপ উৎসবের সূচনা নিজের হাতে করেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ।
১২ লক্ষ প্রদীপের তলায় দ্রারিদ্রের অন্ধকার




