নজরবন্দি ব্যুরোঃ গতকালই রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন কালচিনি ব্লক তৃণমূলের সভাপতি পাশাং লামা। সোমবার গ্রেফতার হতেই বড় পদক্ষেপ নিল দল। কালচিনির ব্লক সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল পাশাং লামাকে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে একথা জানালেন জেলা সভাপতি প্রকাশ চিক বরাইক।
আরও পড়ুনঃ এতবড় একটা দলে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়, সকলকে একযোগে কাজ করার বার্তা পার্থর


উল্লেখ্য, রবিবার সন্ধ্যায় আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটের বীরপাড়ার কাছে রাঙালিবাজনায় ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ে টোল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। তাঁর গ্রেফতারের পরেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। কারণ, অনেকেই মনে করেছিলেন অভিষেক নিযুক্ত পাশাংকে গ্রেফতার করে কী বার্তা দিতে চাইছে তৃণমূল?
লোকসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন তৃণমূলের নেতারা। জমি ফিরে পেতে পাশাংকে দলে নিয়েছিল তৃণমূল। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তাঁকেই কালচিনি ব্লকের দায়িত্ব দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু উত্তরবঙ্গে এমনকি আলিপুরদুয়ারেও মুখ থুবড়ে পড়ে তৃণমূল। নিজেই পরাজিত হন পাশাং।



সম্প্রতি প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গিয়েছিল, কালচিনিতে অবৈধ ব্যবসা এবং হেরিটেজ সম্পত্তি বিক্রি হচ্ছে। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তারপত্রি সক্রিয় হয় প্রশাসন। পুলিশের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে চোরাই কাঠ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাং লামার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি জারি করা হয়েছিল।
জেলা সভাপতি প্রকাশ চিক বরাইক জানিয়েছেন, পাশাং লামার যে রাজনৈতিক পদ ছিল সেখান থেকে তাঁকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে। প্রশাসন, প্রশাসনের কাজ করবে। সেই কাজে আমরা কোনরকম বাধা দেবো না। এরকম কাজকে আমরা বরদাস্ত করি না। পাশাং লামার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে প্রশাসন দেখেছে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
গ্রেফতার হতেই বড় পদক্ষেপ, জানালেন জেলা সভাপতি

এবিষয়ে মাদারিহাটের বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিগ্গা নজরবন্দিকে জানিয়েছেন, “এধরনের পাশাং লামা সারা ডুয়ার্স জুড়ে ভর্তি রয়েছে। এধরনের ধর্ষণ, খুন আগে ছিল না। এখন সেটা অনেক বেড়ে গেছে। প্রশাসন বলে কিছু নেই। রাজনীতির আড়ালে কী কী হচ্ছে তা ধারণার বাইরে। ব্লক সভাপতি যদি এধরনের কাজে যুক্ত থাকে তাহলে ভেবে নিতে হবে অন্যরা কীসে যুক্ত রয়েছেন। এটা ভালো যে মুখ্যমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ নিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। আরও এধরনের গ্রেফতার হওয়া উচিত”।







