২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা ঘিরে পুরনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবার আইনি জটিলতায় ফেলেছে অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে। গড়িয়াহাট থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। মামলার শুনানি আগামী ২৯ মে।
বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের দিন করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, সেই পোস্ট রাজনৈতিক হিংসায় উসকানি দিয়েছিল। একই ঘটনায় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের নামও জড়িয়েছে।
গত ২১ মে আইনজীবী জয়দীপ সেন গড়িয়াহাট থানায় পরমব্রত ও স্বস্তিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ২০২১ সালের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত করে তুলেছিল।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২ মে বিকেল নাগাদ তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর পরমব্রত এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।” সেই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্বস্তিকা লেখেন, “হাহাহা হোক হোক!”
অভিযোগকারীর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে কার্যত উসকানির কাজ করেছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেলেঘাটায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে খুন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী জয়দীপ সেনের বক্তব্য, ওই পোস্টগুলি ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৭ ধারার আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যদিও বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর, তবু ঘটনার সময়কাল অনুযায়ী আইপিসির ধারাই প্রযোজ্য বলেই অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এফআইআরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভোট পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হামলা, অগ্নিসংযোগ, খুন ও নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে দুই অভিনেতার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
এখনও পর্যন্ত পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় কেউই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি। তবে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে কলকাতা হাই কোর্টে এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়েছেন পরমব্রত। আগামী ২৯ মে মামলার শুনানির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের।



