নেতাজির জন্মদিনেই কেন ‘পরাক্রম দিবস’? কী এই দিনের অর্থ ও গুরুত্ব—জানুন ইতিহাসের নেপথ্য কাহিনি

নেতাজির জন্মদিন কেন ‘পরাক্রম দিবস’ নামে পালিত হয়? এই নামকরণের নেপথ্যে কী কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবনা এবং নেতাজির জীবনের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক—জানুন বিস্তারিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২৩ জানুয়ারি মানেই শুধু নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন নয়—এই দিনটি এখন জাতীয় স্তরে পরিচিত ‘পরাক্রম দিবস’ নামে। কিন্তু কেন নেতাজির জন্মজয়ন্তীকে এই বিশেষ নাম দেওয়া হল? ‘পরাক্রম’ শব্দের তাৎপর্যই বা কী? এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী ভাবনা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের? নেতাজির জীবন, আদর্শ এবং সাহসিকতার সঙ্গে এই দিনের নামকরণ কীভাবে যুক্ত—সেই ব্যাখ্যাই উঠে এসেছে এই বিশেষ দিনের ঘোষণায়।

পরাক্রম দিবস কী?

২০২১ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু-র জন্মদিন, অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারি, ‘পরাক্রম দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা করা হয়। সেই অনুযায়ী ২০২১ সাল থেকেই প্রতিবছর এই দিনটি একই নামে পালিত হচ্ছে। নাম পরিবর্তন হলেও দিনের মূল উদ্দেশ্য একটাই—নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁর আদর্শকে স্মরণ করা।

কীভাবে শুরু হল পরাক্রম দিবস?

২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তবে তার আগের রাতেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রধানমন্ত্রীর এক্স (তৎকালীন টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে করা পোস্টে প্রথমবার ব্যবহার করা হয় ‘পরাক্রম দিবস’ শব্দবন্ধ।

ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশে লেখেন—
“প্রিয় পশ্চিমবঙ্গের ভাই ও বোনেরা, আগামীকাল পরাক্রম দিবসের শুভ মুহূর্তে আপনাদের মাঝে উপস্থিত থাকতে পারা আমার কাছে গর্বের।”

এই পোস্টের পর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে ‘পরাক্রম দিবস’।

সরকারিভাবে কী বলা হয়েছিল?

২০২১ সালের গোড়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়—
“নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি সম্মান জানাতে এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর আত্মবলিদানকে স্মরণ করতেই ২৩ জানুয়ারিকে ‘পরাক্রম দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হল।”

পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক জানায়, এই দিনের মূল উদ্দেশ্য দেশের সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে যুবসমাজকে দেশপ্রেম, সাহস ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করা।

‘পরাক্রম’ নামটাই বা কেন?

‘পরাক্রম’ শব্দের অর্থ—সাহস, বীরত্ব, দৃঢ়তা এবং আপসহীন মনোভাব। নেতাজির জীবন ও সংগ্রামের সঙ্গে এই শব্দের অর্থ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলন, আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ—সব মিলিয়ে নেতাজির জীবন ছিল পরাক্রমের প্রতিচ্ছবি।

তবে এই নামকরণ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও কম হয়নি। অনেকের প্রশ্ন ছিল—‘দেশনায়ক দিবস’ নয় কেন? সেই বিতর্ক সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার তাদের অবস্থানে অনড় থাকে এবং ‘পরাক্রম দিবস’ নামেই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

এই দিনের গুরুত্ব কী?

পরাক্রম দিবস কেবল স্মরণ অনুষ্ঠান নয়। এই দিনটি নেতাজির আদর্শ—

  • আপসহীন দেশপ্রেম

  • আত্মত্যাগ

  • সাহসী সিদ্ধান্ত

  • তরুণদের নেতৃত্বে বিশ্বাস

এই মূল্যবোধগুলিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি প্রয়াস। নাম যাই হোক, লক্ষ্য একটাই—নেতাজিকে স্মরণ করা এবং তাঁর পথ অনুসরণ করা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত