পানিহাটির রাস্তায় গরম হাওয়া আর ধুলোয় ভেসে আসছে একটাই স্লোগান—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। কিন্তু এই পরিচিত শব্দবন্ধ এখন আর কেবল ন্যায়বিচারের দাবি নয়, তা জড়িয়ে গেছে নির্বাচনী রাজনীতির অঙ্কের সঙ্গে। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক—আরজি কর কাণ্ড কি তবে ভোটের ময়দানে ‘ইস্যু’ হয়ে উঠছে?
উত্তপ্ত দুপুরে প্রচারে ব্যস্ত বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ—একজন মা, যিনি নিজের মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচারের দাবিতেই একসময় সরব হয়েছিলেন। এখন সেই দাবিকেই সামনে রেখে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। তাঁর শাড়ির পাড়ে লেখা—‘মেরুদণ্ড বিক্রি নেই’। কিন্তু স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, সেই মেরুদণ্ড কি আগেও একইভাবে অটুট ছিল?
প্রচারের সময় বারবার মেয়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে আবেগঘন আবেদন রাখছেন রত্না দেবনাথ। কিন্তু এলাকার মানুষ এই অবস্থান বদল সহজে মেনে নিতে পারছেন না। কয়েক মাস আগেও কেন্দ্রীয় তদন্ত এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। আজ সেই একই রাজনৈতিক শিবিরের প্রতিনিধিত্ব করছেন—এই পরিবর্তনই বিতর্কের কেন্দ্রে।
পানিহাটির এক বাসিন্দা রুমা দে বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে আগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন, আজ তাদেরই ছায়ায় দাঁড়িয়ে বিচার চাইছেন—এটা মানা কঠিন।” একই সুর শোনা যায় স্থানীয় যুবতী রিঙ্কু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও—“যাদের দোষ দিয়েছিলেন, আজ তাদের পক্ষেই ভোট চাইছেন!”
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জোরকদমে চলছে প্রচার। জনসংযোগ, পথসভা—সব মিলিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না রত্না দেবনাথ। নারী নিরাপত্তা ও এলাকার উন্নয়নকে সামনে রেখে তিনি দাবি করছেন, “আমার জয় মানে মানুষের জয়।”
তবে এই প্রচারের আড়ালে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—একজন শোকার্ত মায়ের ন্যায়বিচারের দাবি কি রাজনৈতিক রঙে ঢেকে যাচ্ছে? চায়ের দোকান, বাজার—সব জায়গায় এখন সেই আলোচনা।
বিচারের দাবির সেই আবেগ কি শেষ পর্যন্ত ভোটের অঙ্কেই হারিয়ে যাবে, নাকি মানুষ আলাদা করে দেখবে এই দুই বাস্তবতাকে—সেটাই এখন দেখার।



