নজরবন্দি ব্যুরো: সকাল থেকেই শুরু হয়েছে হাইভোল্টেজ পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই ভোটকে কেন্দ্র করেই সামনে আসছে অশান্তির খবর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রক্তারক্তি কাণ্ড। ভোট হিংসায় মৃতের সংখ্যা ২০- র বেশি। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস নিজে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বেরিয়ে পড়েছেন। এদিকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের দেখা নেই। শাসক কিংবা বিরোধী, সন্ত্রাসের হাত থেকে রেহাই মিলছে না কারও।
আরও পড়ুন: সায়নীকে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন Kuntal Ghosh? কী বললেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা
কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা বাহিনী। কিন্তু বিভিন্ন বুথে দেখা যাচ্ছে অশান্তির সময় রাজ্য পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী কেউই উপস্থিত নেই। নন্দীগ্রামে পুলিশের পা ধরে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার অনুরোধ করেছেন ভোটাররা। কোচবিহারে ভোট শুরুর আগেই বিজেপির এক এজেন্টকে গুলিতে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যালট ভাঙচুর, ছাপ্পা ভোট, রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থকদের মারধর, একের পর এক অভিযোগে রণক্ষেত্র বাংলা। মনোনয়ন পর্বে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছিল ভাঙড়। ভোটের দিন সকালেও সেখানে চলে বোমাবাজি। এক আইএসএফ প্রার্থীর বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভাঙড়ের চকমারিয়ায় ২ আইএসএফ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
![]()
উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায় দেদার ভোট লুঠের অভিযোগ এসেছে। দুষ্কৃতীদের একদল টেবিলে বোমা রেখে ভোট লুঠ করছে এবং ভোটকর্মীরা নিরুপায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে দেখছেন, এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। মুর্শিদাবাদে দফায় দফায় অশান্তি ছড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই জেলাতেই ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেজিনগরে এক তৃণমূল কর্মী বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত বাংলা। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। আর্জিতে সায় দেয় আদালত। প্রতি বুথে ৫০:৫০ অনুপাতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ। কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন হবে, তা দেখার দায়িত্ব দেন বিএসএফ আইজিকে। বিএসএফ আইজি কমিশনকে প্ল্যান পাঠান। সেখানে দেখা যায়, প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই, কেবল স্পর্শকাতর বুথগুলিতেই তাদের ব্যবহার করা হবে। ভোট গণনার পরবর্তী ১০ দিনে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বলে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু ভোটের দিন লাগামহীন সন্ত্রাসের জেরে কার্যত অগ্নিগর্ভ পশ্চিমবঙ্গ।
পঞ্চায়েত ভোটের শুরু থেকেই ‘অগ্নিগর্ভ’ বাংলা, লাগামহীন সন্ত্রাসে চড়ছে অশান্তির পারদ




