শিশুদের টার্গেট করে জিহাদি তৈরির ছক! ‘স্কুল’-এর আড়ালে নতুন কৌশল জৈশ–লস্করের

পাকিস্তানে ‘বোর্ডিং স্কুল’-এর আড়ালে জঙ্গি প্রশিক্ষণের অভিযোগ—৭ থেকে ১৩ বছরের শিশুদের টার্গেট করে লস্কর ও জৈশের নতুন কৌশল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দারিদ্র, প্রলোভন আর শিক্ষার ছদ্মবেশ—এই তিনকে হাতিয়ার করে ফের সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলি। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পাকিস্তানে শিশু-কিশোরদের লক্ষ্য করে ‘স্কুল’-এর নামে গড়ে তোলা হচ্ছে জিহাদি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে অল্প বয়স থেকেই মগজধোলাই ও অস্ত্রচালনার পাঠ দেওয়া হচ্ছে।

পাকিস্তানে জঙ্গি তৈরির প্রশিক্ষণ শিবির নতুন নয়। বহু বছর ধরেই লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশ-ই-মহম্মদের মতো সংগঠনগুলি শিশু-কিশোরদের নিয়োগ করে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। অতীতে ২৬/১১ মুম্বই হামলায় ধৃত আজমল আমির কাসভের মতো জঙ্গিরাও এই ধরনের ক্যাম্পেরই ‘ফসল’ বলে মনে করা হয়।

তবে সম্প্রতি যে তথ্য সামনে এসেছে, তা আরও উদ্বেগজনক। গোয়েন্দাদের দাবি, এ বার সরাসরি ট্রেনিং ক্যাম্প নয়—বরং ‘বোর্ডিং স্কুল’-এর আড়ালে চালানো হচ্ছে এই কার্যকলাপ। পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর, বিশেষ করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK), এমন একাধিক পোস্টার দেখা গেছে, যেখানে অভিভাবকদের বিনামূল্যে শিশুদের এই ‘স্কুল’-এ ভর্তি করানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই তথাকথিত স্কুলগুলিতে ৭ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের টার্গেট করা হচ্ছে। থাকা-খাওয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, এমনকি পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হচ্ছে। বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে, লাহোর ও করাচির মতো জায়গায় এই ধরনের ‘স্কুল’ খোলার পরিকল্পনার কথা জানা গিয়েছে।

গোয়েন্দাদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট এই রিক্রুটমেন্টকে সহজ করে তুলছে। চরম আর্থিক দুরবস্থায় থাকা বহু পরিবার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই প্রলোভনে পা দিচ্ছেন। ফলে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আলাদা করে লোক টানতে হচ্ছে না—বরং পরিবার নিজেরাই শিশুদের পাঠাচ্ছেন।

এছাড়াও, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি শিবিরগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলে দাবি। এই কাজে পাক সেনা ও আইএসআইয়ের সহায়তার কথাও উল্লেখ করেছেন গোয়েন্দারা। তবে পিওকে-র একাধিক অঞ্চলে পাকিস্তান-বিরোধী মনোভাব বাড়ায় সরাসরি নিয়োগে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই বিকল্প পথ হিসেবে ‘স্কুল’-মডেলকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

শুধু নিজেদের প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থেকে, পাকিস্তানের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলিতেও প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ। সেখানে ভারত-বিরোধী বক্তব্য, জঙ্গিদের মহিমান্বিত করা এবং ‘জিহাদ’-এর আদর্শ প্রচার করা হচ্ছে পড়ুয়াদের মধ্যে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই এই পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে তা দ্রুত বাস্তবায়নের পথে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের লক্ষ্য করে এই কৌশল ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত