ঋণের বোঝায় কার্যত দিশেহারা পাকিস্তান। দেউলিয়া হওয়া এড়াতে এবার সরকারি সম্পদ নিলামে তোলার পথে হাঁটছে ইসলামাবাদ। জাতীয় উড়ান সংস্থা Pakistan International Airlines-এর বেসরকারিকরণের পর তালিকায় যুক্ত হচ্ছে ব্যাঙ্ক, বিমা সংস্থা, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা—এমনকি বিদেশের মাটিতে থাকা বিলাসবহুল হোটেলও।
সরকারি সূত্রের দাবি, International Monetary Fund (IMF)-এর কড়া শর্ত মেনেই এই পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে আর্থিক সহায়তা পেতে হলে বড় আকারের বেসরকারিকরণ অনিবার্য—এই শর্তের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রায় ১৩১ বিলিয়ন ডলার ঋণের চাপ। ফলে অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি পাকিস্তানের জন্য ‘ডু-অর-ডাই’ মুহূর্ত।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগেই রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা, সরকারি ব্যাঙ্ক এবং কয়েকটি প্রিমিয়াম হোটেল বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য। বিক্রির তালিকায় রয়েছে নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক Roosevelt Hotel এবং লাহোরের Services International Hotel—যেগুলিকে সরকার ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট’ হিসেবে বিবেচনা করত।
ইসলামাবাদ-এর যুক্তি, নিত্যদিনের ব্যয় নির্বাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার জোগান স্থিতিশীল করতে এই বিক্রি জরুরি। তবে বিরোধীদের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অপশাসনের দায় এড়াতেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ ‘ঘরের আসবাব’ বিক্রির মতো করে বিক্রি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বেসরকারিকরণ স্বল্পমেয়াদে নগদ জোগান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান, পরিষেবার মান ও রাষ্ট্রের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা টানছেন অনেকে—পাকিস্তান কি শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক স্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারবে, নাকি এটি কেবল পতনের আগে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা—তার উত্তর দেবে সময়।









