জলপাইগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। SIR বিরোধী কর্মসূচিতে দেওয়া ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা ছড়িয়েছে জেলার রাজনীতিতে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি, আর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সতর্ক দূরত্ব বজায় রাখছে।
রবিবার রাজগঞ্জ ব্লকে আয়োজিত SIR বিরোধী মিছিল ও সভা থেকে জেলা তৃণমূলের SC-OBC সেলের সভাপতি কৃষ্ণ দাস বলেন, “বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আমাদের পড়শি, আমাদের ভাই। আমাদের লড়াই চিন বা ইংল্যান্ডের সঙ্গে হওয়া উচিত, যারা আমাদের শাসন-শোষণ করেছে।” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক দানা বাঁধে।


বিজেপি এই মন্তব্যকে ‘পাকিস্তানপ্রীতি’ বলে আক্রমণ শুরু করে। রাজগঞ্জে পাল্টা পথসভা করে বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা কিষান মোর্চার সভাপতি নকুল দাস নাম না করে তৃণমূল নেতাকে কটাক্ষ করে বলেন, এমন মনোভাব থাকলে তাঁকে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কথাও ভাবতে পারেন। বিজেপির দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী দেশের ভূমিকার প্রেক্ষিতে এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন।
তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কৃষ্ণ দাস বলেন, তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ভিন্ন। তাঁর কথায়, “আমরা চাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক থাকুক। আশপাশের দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল হলে বাইরের শক্তি সহজে আমাদের ক্ষতি করতে পারে না।” তিনি জোর দিয়ে জানান, এটি কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা, কোনও রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নয়।
এ বিষয়ে তৃণমূলের অন্য নেতারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনীহা দেখিয়েছেন। জেলা সম্পাদক বিকাশ মালাকার বলেন, “কৃষ্ণ দাস কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা উনিই স্পষ্ট করবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রশ্নে কেন্দ্রের সঙ্গেই রয়েছেন।”


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী দেশ সংক্রান্ত মন্তব্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাই স্থানীয় স্তরে দেওয়া এমন বক্তব্য সহজেই রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। জলপাইগুড়ির এই বিতর্ক সেই বাস্তবতাই আবার সামনে আনল।








