দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে। শনিবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের দুই প্রদেশে পাকিস্তানি সেনার বিমান ও বোমা হামলায় অন্তত ১৭ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে খবর। মৃতদের মধ্যে শিশু ও মহিলাও রয়েছেন, যা ঘটনাকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষের আবহে এই হামলা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আফগান সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত লাগোয়া নানগড়হার ও পাকটিকা প্রদেশের একাধিক এলাকায় হামলা চালানো হয়। আফগান সংবাদমাধ্যম TOLONews জানিয়েছে, শনিবার রাতভর বিভিন্ন জেলায় বিস্ফোরণ ও বোমাবর্ষণ চলে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পাকটিকার বেহসুদ জেলায়, যেখানে একটি বাড়ি ধসে একই পরিবারের বহু সদস্য ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন। অন্তত ২৩ জন আটকে পড়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পাকিস্তানের একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, আফগান ভূখণ্ডে লুকিয়ে থাকা জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতেই এই হামলা করা হয়েছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) এবং ইসলামিক স্টেট (IS)-ঘনিষ্ঠ ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেই আঘাত হানা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের কাছে এক বিস্ফোরণে পাকিস্তানের ১১ জন সেনা ও এক শিশুর মৃত্যু হয়। তার আগে বান্নু অঞ্চলেও বিস্ফোরণে নিহত হন পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য। এই ধারাবাহিক হামলার পরই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসলামাবাদ—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালিবান সরকার জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং তাদের মদতেই পাকিস্তানের ভিতরে হামলা সংগঠিত হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদের একটি মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনাতেও আফগান জঙ্গিদের ভূমিকার অভিযোগ তুলেছিল পাকিস্তান সরকার। তবে কাবুল সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
শনিবারের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আফগান সরকারের মুখপাত্র জ়াবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা আড়াল করতেই পাকিস্তানি সেনা আফগানিস্তানের উপর হামলা চালিয়েছে।” তাঁর দাবি, এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।



