রবিবার গভীর রাতে কলকাতার বুকে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ বহুতল। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের গার্ডেনরিচ এলাকায়। সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতা বন্দোপাধ্যায় স্বয়ং স্বীকার করেছেন যে, বহুতলটি অবৈধ ছিল। প্রমোটারদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঘিঞ্জি এলাকায় বহুতল বানানোর আগে আশেপাশের গরীব মানুষগুলোর কথা একটু ভাববেন।
আরও পড়ুন: গার্ডেনরিচে অবৈধ বহুতল নির্মাণে তৃণমূলের মদত, বিরোধীদের পাল্টা কী জবাব দিলেন অভিষেক?


গার্ডেনরিচের ঘটনায় আহত বহু। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জন। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পরই অভিযুক্ত প্রোমোটার মহম্মদ ওয়াসিমকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। অবৈধ নির্মাণের জন্য কেএমসি অ্যাক্টে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও, ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন, ৩০৭ ধারায় খুনের চেষ্টার ধারা রয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে। বহুতলটির জি প্লাস টু অনুমোদন ছিল। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে গিয়েছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

এই ঘটনা সামনে আসার পর রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধীরা। নিজের এলাকায় বেআইনি বহুতল জানতেন না মেয়র? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? দোষী নিজেই রক্ষকের ছদ্মবেশে উদ্ধারকাজে শামিল হয়েছেন বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীরা। ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামস ইকবালের বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ। কাউন্সিলরের পাশে দাঁড়িয়েছে পুরমন্ত্রী।



গার্ডেনরিচে বহুতল বিপর্যয়ে কাঠগড়ায় তৃণমূল, বিরোধীদের নিশানায় কে?
তিনি বলেছেন, “দুর্নীতি শুরু হয়েছিল বাম আমলে। একজন কাউন্সিলারের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় কোনটা বৈধ নির্মাণ এবং কোনটা অবৈধ। এটা প্রশাসনের দায়িত্ব।” ক্ষতিপূরণ ঘোষণা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন বিরোধীরা। আদর্শ আচরণবিধির মাঝে কেউই প্রকাশ্যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করতে পারেন না। এই বিষয়েও একজোট হয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিরোধীরা।








