বিরোধী দলনেতার ঘর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় জটিলতা আরও তীব্র হল। শুক্রবার নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বিধানসভা চত্বরে, যখন বিরোধী দলনেতার জন্য নির্ধারিত ঘরের সামনেই মেঝেতে বসে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ।
এই বিক্ষোভে সামিল ছিলেন তৃণমূল পরিষদীয় দলের নির্বাচিত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন মন্ত্রী পুলক রায়, অরূপ রায়-সহ প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন বিধায়ক।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত আগেই লিখিতভাবে বিধানসভার সচিবালয় ও অধ্যক্ষকে জানানো হয়েছিল। তবে সচিবালয়ের তরফে দাবি করা হয়, প্রথম রেজোলিউশনে কতজন বিধায়কের সম্মতি রয়েছে, তা স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না।
এরপরই নতুন করে একটি রেজোলিউশন জমা দেয় তৃণমূল পরিষদীয় দল। দলীয় সূত্রের দাবি, সেই নথিতে জয়ী ৭০ জন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু তারপরেও বিরোধী দলনেতার জন্য নির্ধারিত ঘর খুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
বিধানসভা সচিবালয় জানিয়েছে, নবনির্বাচিত অধ্যক্ষ বর্তমানে কোচবিহারে রয়েছেন। তিনি কলকাতায় ফিরলেই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই অবস্থানে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিধানসভার সচিব কীভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এ ধরনের অবস্থান জানাচ্ছেন। তাঁর কথায়, সংসদীয় গণতন্ত্রে এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি।
শাসক দলকেও কটাক্ষ করেন বিমান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অধ্যক্ষ নির্বাচনের দিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। সেই অবস্থান হঠাৎ বদলে গেল কেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, এ দিনের বিক্ষোভ কোনও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল না। অতিরিক্ত রেজোলিউশন জমা দেওয়ার পর সবাই আশা করেছিলেন ঘরটি খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয় এবং বিধায়কেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদে সামিল হন।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও এ দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংখ্যায় কম হলেও বিরোধী শিবিরের কণ্ঠস্বরকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তাঁকে কখনও হতে হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর ঘিরে এই টানাপোড়েন এখন শুধু প্রশাসনিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন অধ্যায় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



