বঙ্গে ‘অপারেশন পদ্ম’! বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের ১৯ সাংসদ, জোর জল্পনা দিল্লিতে

লোকসভায় তৃণমূলের বড় ভাঙনের জল্পনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। বিজেপির সঙ্গে ১৯ সাংসদের যোগাযোগের দাবি ঘিরে সরগরম দিল্লির রাজনৈতিক মহল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকসভায় তৃণমূলের অন্দরেই কি শুরু হয়ে গেল বড়সড় ভাঙনের কাউন্টডাউন? দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, তৃণমূলের একাধিক সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বা সমর্থন জানানোর প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন। ‘অপারেশন পদ্ম’ ঘিরে এখন তীব্র চাঞ্চল্য জাতীয় রাজনীতিতে।

লোকসভায় বর্তমানে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ২৯। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, এঁদের মধ্যে প্রায় ডজনখানেক সাংসদ ইতিমধ্যেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। শুধু তাই নয়, আরও পাঁচ থেকে ছয় জনের নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ১৮ থেকে ২০-এ পৌঁছতে পারে বলেই জল্পনা ছড়িয়েছে।

দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। সেই হিসেবেই নাকি এগোচ্ছে গোটা পরিকল্পনা। ২৯ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ১৯ বা ২০ জন একসঙ্গে দল ছাড়লে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না। সেই কারণেই চূড়ান্ত সংখ্যাটা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী বর্ষাকালীন অধিবেশনেই পরিস্থিতি অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। তৃণমূল নেতৃত্বও এই সম্ভাব্য ভাঙনের আঁচ পেয়েই সাংসদদের ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে বলে খবর। কারণ, যাঁদের নাম উঠে আসছে তাঁদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত কয়েকজন সাংসদও রয়েছেন।

বিজেপির মূল লক্ষ্য শুধু সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, সংসদে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। বর্তমানে লোকসভায় বিজেপির সাংসদ সংখ্যা ২৪০। সরকার টিকিয়ে রাখতে নির্ভর করতে হচ্ছে শরিক দলগুলির উপর। তৃণমূল ভেঙে যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ বিজেপির পাশে আসে, তাহলে সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, মহিলা সংরক্ষণ বিল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল সহজে পাশ করানোর লক্ষ্যেও এই রাজনৈতিক সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা এগোচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

তৃণমূলের অন্দরেই যে অসন্তোষ বাড়ছে, তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা। একাংশ সাংসদের অভিযোগ, আইপ্যাকের ভূমিকা ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন দলের একাংশ। সেই অসন্তোষই এখন বিজেপির পক্ষে রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কার পর একাধিক পুরসভা ও স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের ভিত নড়ে গিয়েছে বলেও দাবি বিরোধীদের। যদিও প্রকাশ্যে বিজেপি এখনও দলবদল প্রসঙ্গে খুব বেশি মুখ খোলেনি, তবে সংগঠনের ভিতরে প্রস্তুতি চলছে বলেই রাজনৈতিক সূত্রের ইঙ্গিত।

পাঞ্জাবের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও বাংলার এই সমীকরণের তুলনা টানা হচ্ছে। সেখানে আপের একাধিক সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি বেড়েছে। দিল্লির রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলাতেও একই ধরনের কৌশল নিয়েই এগোতে চাইছে বিজেপি।

এখন নজর একটাই—তৃণমূল নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত এই সম্ভাব্য ভাঙন আটকাতে পারে কি না। কারণ, জাতীয় রাজনীতিতে এই সমীকরণ বদলে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলার আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়েও।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

আরও খবর