নিউটাউনে পথচারীকে ধাক্কা মারার ঘটনার পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। সোমবার রাতে ইকোপার্ক থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিও ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং সেই ভিডিও শেয়ার করে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত।
সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকোপার্ক থানা এলাকায় এক পথচারীকে গাড়ির ধাক্কা মারার অভিযোগ ওঠে প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও শেয়ার করে কলতান দাশগুপ্ত দাবি করেন, প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অভিযোগ ছিল এবং নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।


কলতানের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে এবং অতীতে সরকারি চাকরি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিযুক্তকে দীর্ঘ সময় পুলিশ কেন খুঁজে পায়নি।
প্রশান্ত বর্মণের নাম এর আগেও আলোচনায় এসেছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের বাসিন্দা স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুন মামলায়। মৃতের পরিবারের অভিযোগ ছিল, সল্টলেকের দত্তাবাদ এলাকা থেকে অপহরণের পর ওই ব্যবসায়ীকে খুন করা হয় এবং সেই ঘটনায় প্রশান্ত বর্মণের নাম উঠে আসে। যদিও সেই অভিযোগ তিনি প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছিলেন।
মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আদালত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিষণইয়ের বেঞ্চ স্থানীয় আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তার আগেও কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।


অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আত্মসমর্পণ না করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইনি সুরক্ষা চাইলেও সেখানে স্বস্তি পাননি।
নিউটাউনের সাম্প্রতিক ঘটনার পর পুরনো অভিযোগ ও আইনি বিতর্ক আবারও সামনে চলে এসেছে। তবে পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট ও আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের দিকেই এখন নজর থাকবে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



