ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে নতুন পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগের তালিকা বাতিলের পর এবার সময় নিয়ে নতুন ওবিসি তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবগঠিত বিজেপি সরকার। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সমীক্ষার ভিত্তিতে নতুন তালিকা তৈরি হবে এবং সেই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বিধায়কদেরও। ফলে সংরক্ষণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছে রাজনৈতিক মহল।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে আগের সরকারের তৈরি নতুন ওবিসি তালিকা সম্পূর্ণ বাতিল করেছে রাজ্য। ফলে আপাতত ২০১০ সালে তালিকাভুক্ত ৬৬টি সম্প্রদায়ই ওবিসি সংরক্ষণের আওতায় থাকছে। সরকার এবার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে তালিকা প্রস্তুত করবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।


সূত্রের খবর, প্রায় চার মাস ধরে চলবে এই সমীক্ষার কাজ। সরকারি পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তব পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দাবি-দাওয়া সম্পর্কে মতামত নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধায়কদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির একাংশের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে নতুন ওবিসি তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। বৈঠকে মোট ২৬ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথও ছিলেন।
ওবিসি তালিকা নিয়ে রাজ্যের সাম্প্রতিক আইনি প্রেক্ষাপটও উল্লেখযোগ্য। বামফ্রন্ট সরকারের শেষ পর্যায় এবং তৃণমূল সরকারের প্রথম পর্যায়ে ২০১০ সালের মার্চ থেকে ২০১২ সালের মে মাসের মধ্যে মোট ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে তৎকালীন সরকার নতুন সংরক্ষণ কাঠামো কার্যকর করলে রাজ্যে মোট ওবিসি গোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে ১৭৯-এ পৌঁছয়।


তবে ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ১১৩টি সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয় এবং পূর্ববর্তী ৬৬টি সম্প্রদায়কেই বহাল রাখে। পরে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে গেলেও সরকার পরিবর্তনের পর সেই মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা হয়।
সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— নতুন তালিকা তৈরিতে কোনও তাড়াহুড়ো করা হবে না। যাঁরা প্রকৃত অর্থে সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, তাঁদেরই নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উপর জোর দেওয়া হবে। আর সেই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য ও মতামত সংগ্রহে বিধায়কদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
ওবিসি তালিকা পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ আগামী দিনে সংরক্ষণ নীতি ও রাজ্যের সামাজিক সমীকরণ— দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



