বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন সাংগঠনিক কৌশল নিয়েছে বিজেপি। সুনীল বনসলের নির্দেশে জেলায় জেলায় গড়ে উঠছে কোর কমিটি, যার মূল লক্ষ্য শুধু সংগঠন মজবুত করা নয়, প্রশাসনিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গত ১৫ মে রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল সমস্ত সাংগঠনিক জেলায় কোর কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। মাত্র ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ২৫ মে-র মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ ছিল। বিজেপি সূত্রের দাবি, অধিকাংশ জেলাতেই ইতিমধ্যে সদস্যদের নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।


এই কোর কমিটিতে থাকবেন জেলা সভাপতি, জেলা পর্যবেক্ষক, জেলা সাধারণ সম্পাদকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কেরা। অর্থাৎ, সংগঠন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এক ছাতার তলায় এনে সমন্বয়ের নতুন মডেল তৈরি করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
প্রথমদিকে অনেকেই মনে করেছিলেন, জেলা সভাপতিদের একক সিদ্ধান্তে লাগাম টানতেই এই কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কারণ, বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বিধায়কের সংখ্যাও প্রায় তিনগুণ হয়েছে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনপ্রতিনিধিদের মতামতের গুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছিল।
তবে পরে বিজেপির অন্দরেই অন্য ব্যাখ্যা সামনে আসে। দলীয় সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় ও নজরদারি বাড়ানোই আসল উদ্দেশ্য। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যের একাধিক পুরসভা ও পঞ্চায়েতে অচলাবস্থার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও জনপ্রতিনিধিরা নিষ্ক্রিয়, কোথাও আবার দুর্নীতি বা হিংসার মামলায় বিতর্কে জড়িয়েছেন।


এই পরিস্থিতিতে সরকারি পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিধায়কদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে। আর সেই কাজেই জেলা কোর কমিটিগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
বিজেপির একাধিক জেলা নেতার বক্তব্য, এ বার নির্বাচনে যাঁরা বিধায়ক হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন না। অন্যদিকে সাংগঠনিক নেতৃত্বের অনেককে ভোটে প্রার্থীও করা হয়নি। ফলে দুই স্তরের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই ব্যবধান কমাতেই কোর কমিটির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কোর কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে দলীয় নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং স্থানীয় পরিস্থিতির তথ্য একে অপরের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাবে বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব। এর ফলে শুধু সাংগঠনিক সমন্বয় নয়, প্রশাসনিক কাজকর্মের উপরও স্থানীয় নেতৃত্বের নজরদারি বাড়বে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ এই মডেলের সঙ্গে বাম আমলের সাংগঠনিক কাঠামোর তুলনা টানছেন। তখনও প্রশাসন ও দলের মধ্যে সমন্বয়ের অভিযোগ উঠত বিরোধীদের তরফে। যদিও প্রকাশ্যে দল ও সরকারের পৃথক অবস্থান বজায় রাখা হত।
এখন প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির নতুন জেলা কোর কমিটি কি সেই পথেই হাঁটবে? উত্তর ভবিষ্যৎ দেবে। তবে এটুকু স্পষ্ট, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও নিজেদের প্রভাব আরও সুসংহত করতে চাইছে বিজেপি।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



