আবাস যোজনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু এ বার সেই অভিযোগে যুক্ত হল ‘ছাগল’! পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি থেকে ছাগল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুললেন গ্রামের এক মহিলা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার বিধানসভা এলাকার বামুনারা পঞ্চায়েতের বিজিপুর গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গলি মান্দার সোমবার ভাতার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তৃণমূল নেতা বিল্লেশ্বর দাস তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বাড়ির একটি ছাগলও নিয়ে যান বলে দাবি মহিলার।


থানার সামনে দাঁড়িয়ে মঙ্গলি বলেন, “আমার টাকা ফেরত চাই। ছাগলের দামও ফেরত চাই।” তাঁর অভিযোগ, শুধু তিনি নন, এলাকার আরও বহু মানুষের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিজিপুর গ্রামের প্রায় ৩৪ জনের কাছ থেকে আবাস প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে নাম জড়িয়েছে বিল্লেশ্বর দাসের ছেলে রাজকুমারেরও।
অভিযোগ জানাতে এ দিন ভাতার থানায় হাজির হন গ্রামের একাধিক বাসিন্দা। তাঁদেরই একজন কাকলি দাসের দাবি, ব্যাঙ্ক থেকে আবাসের টাকা তোলার সময়ই তাঁর কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা ফেরতের দাবিতেই তিনি থানায় এসেছেন বলে জানান।


গ্রামের আর এক বাসিন্দা রমেশকুমার দাস অভিযোগ করেন, বিল্লেশ্বর দাস একসময় তৃণমূলের স্থানীয় নেতা ও পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য ছিলেন। তাঁর দাবি, বহু মানুষের কাছ থেকে কাটমানি তোলা হয়েছে। এখন তিনি বিজেপির বিজয় মিছিলে দেখা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন রমেশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, ভোটের সময়ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ভোটের পরে দেখে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের। ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিল্লেশ্বর দাস। তাঁর বক্তব্য, “আগে তৃণমূল করতাম, এখন কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
এদিকে একই বিধানসভা এলাকার ক্ষেতিয়া অঞ্চলে তোলাবাজি, হুমকি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অভিষেক দাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার বর্ধমান আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভাতারে একের পর এক অভিযোগ ঘিরে এখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। আবাস যোজনা ও কাটমানি বিতর্কে নতুন এই অভিযোগ রাজ্যের রাজনীতিতে আরও অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



