সবুজ-মেরুন শিবিরে আচমকা বড় ধাক্কা। মোহনবাগান ক্লাবের সহসভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল নেতা ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সোমবার নিজের ‘X’ হ্যান্ডেলে ইস্তফাপত্র প্রকাশ করে সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। মুহূর্তে তা ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে ময়দান ও রাজনৈতিক মহলে।
সোমবার বিকেলে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ যখন অন্য ইস্যুতে উত্তপ্ত, ঠিক সেই সময়ই সামনে আসে কুণাল ঘোষের ইস্তফার খবর। মোহনবাগান ক্লাবের সভাপতি দেবাশিস দত্তকে পাঠানো ইস্তফাপত্র সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। এরপর থেকেই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় জোর জল্পনা।
তবে ইস্তফার পিছনে কোনও রাজনৈতিক চাপ বা ক্লাবের অন্দরের দ্বন্দ্ব নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন কুণাল। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ইস্তফাপত্রে ক্লাবের প্রতি নিজের আবেগের কথাও তুলে ধরেছেন তৃণমূল নেতা। তিনি লিখেছেন, “জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই আমি মোহনবাগান।” ছোটবেলার গ্যালারির স্মৃতি থেকে শুরু করে ক্লাবের কঠিন সময়ে সমর্থকদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন।
দু’দফায় মোহনবাগানের সহসভাপতি হওয়ার সুযোগকে তিনি নিজের জীবনের বড় প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দায়িত্বে থাকাকালীন ক্লাবে ‘স্পোর্টস লাইব্রেরি’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা তাঁর কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
কেবল চিঠিই নয়, সমাজমাধ্যমে দুটি ছবিও পোস্ট করেছেন কুণাল। একটি ১৯৮৫ সালের মোহনবাগান মাঠের পুরনো ছবি, অন্যটি ২০২৫ সালে স্কটল্যান্ডে তোলা। সেই ছবিগুলির মাধ্যমে ক্লাবের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আবেগঘন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
কুণাল আরও জানিয়েছেন, ২৫ মে পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাকেই যেন তাঁর চূড়ান্ত ইস্তফা হিসেবে ধরা হয়। যদিও পদ ছাড়লেও আজীবন মোহনবাগানের সমর্থক হিসেবেই পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
সভাপতি দেবাশিস দত্ত ও সচিব সৃঞ্জয় বসুর নেতৃত্বে ক্লাব আরও এগিয়ে যাক— এই শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি। এখন প্রশ্ন, ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই ইস্তফা মেনে নেয় নাকি কুণালকে ফেরানোর চেষ্টা করে।



