রাজ্যে ক্রীড়া পরিকাঠামো ও খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। অলিম্পিক পদকজয়ীদের পুরস্কার এক লাফে কয়েকগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব থেকে শুরু করে চাকরি, জেলা ভিত্তিক ক্রীড়া মহোৎসব ও আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো— নতুন ক্রীড়া রূপরেখা সামনে আনল রাজ্য সরকার। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অলিম্পিকে সোনা জিতলে ৮ কোটি টাকার পুরস্কারের ঘোষণা।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, আগের তুলনায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের আর্থিক পুরস্কার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আরও বড় মঞ্চে পৌঁছে দিতে আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রণোদনা জরুরি।


নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতলে ক্রীড়াবিদ পাবেন ৮ কোটি টাকা। রৌপ্য পদকজয়ীদের জন্য প্রস্তাবিত পুরস্কার ৬ কোটি টাকা এবং ব্রোঞ্জ পদক পেলে দেওয়া হবে ৪ কোটি টাকা। আগে এই অঙ্ক যথাক্রমে ২৫ লক্ষ, ১৫ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা ছিল।
শুধু অলিম্পিক নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও পুরস্কার বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলে ৫ কোটি, রুপোয় ৪ কোটি এবং ব্রোঞ্জে ২ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণজয়ীদের জন্য দেড় কোটি, রুপোয় ৭৫ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জে ৫০ লক্ষ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপগুলির ক্ষেত্রেও নতুন পুরস্কার কাঠামো আনা হচ্ছে। সেখানে সোনায় ২ কোটি, রুপোয় দেড় কোটি এবং ব্রোঞ্জে ১ কোটি টাকা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। পাশাপাশি ন্যাশনাল গেমসে পদকজয়ীদের জন্যও পুরস্কার বৃদ্ধি করা হয়েছে।


আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে পদক জয় করলে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ডিএসপি পদ পর্যন্ত সরকারি চাকরির সুযোগের কথাও জানানো হয়েছে। এই সুবিধা অলিম্পিক, প্যারালিম্পিক ও কমনওয়েলথ গেমসের পদকজয়ীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়া প্রশাসনকে নতুনভাবে সাজাতে অ্যাডভাইসারি কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করেন নিশীথ প্রামাণিক। আগামী দিনে খেলো ইন্ডিয়া ও সাইয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজ্যের ক্রীড়া উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে জেলার প্রতিভা তুলে আনতে ১২টি খেলাকে কেন্দ্র করে জেলায় জেলায় ক্রীড়া মহোৎসব আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব আয়োজনের পরিকল্পনা কলকাতায়। এছাড়া রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে অলিম্পিক মানের ট্র্যাক তৈরির উদ্যোগ এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বাইরের বর্তমান ভাস্কর্য পরিবর্তনের বিষয়েও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নতুন ক্রীড়া নীতির মাধ্যমে বাংলার ক্রীড়া মানচিত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের বার্তাই দিল রাজ্য সরকার।











