নজরবন্দি ব্যুরোঃ
জরবন্দি ব্যুরোঃ মুখ্যমন্ত্রী নন, করোনা নিয়ন্ত্রণে দিব্যেন্দু ভরসা রাখছেন রাজ্যপালে, আর্জি জানিয়ে দিলেন চিঠি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে জেরবার বিশ্ব, আতঙ্কে গোটা দেশ। সুস্থতার হার একটু বাড়তেই ফের নতুন রুপে ফিরে এসেছে করোনা। দ্রুততার সঙ্গে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। সাধারণ মানুষকে বারবার সতর্ক করছে ওয়াকিবহাল মহল থেকে চিকিৎসক মহল। পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে হাতের বাইরে যাবে বলেও আশঙ্কা করছে সকলে।

আরও পড়ুনঃ PPE কিট নেই, মাস্কও নাকের নীচে, মেডিক্যাল কলেজে করোনা রোগী লাইন দিচ্ছেন সিটি স্ক্যানে!
দেশের একাধিক রাজ্যে এই মুহুর্তে বড়ো সঙ্কট হাসপাতলে বেড এবং অক্সিজেন। কোভিডে আক্রান্ত হয়েও বেড পাচ্ছেন না বহু মানুষ। এর মধ্যেই গবেষণা বলছে এবারের ভাইরাস বায়ু বাহিত। বারবার বলা হছে কড়া সতর্কীকরণের কথা। মাস্ক থেকে স্যানিটাইজার ব্যবহারের কথা জানান দেওয়া হচ্ছে প্রতি মুহুর্তে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রাত হয়ে দেশে মৃত্যু হয়েছে ১৭৬১ জনের। বাংলায় পরিসংখ্যান কম তো নয়ই বরং ভোট আবহে মিটিংমিছিলে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের গ্রাফ। বিধানসভা নির্বাচন কালে বাংলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী, প্রাণও হারিয়েছেন অনেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজেদের মত করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সব রাজ্যের প্রশাসন।


এই পরিস্থিতিতে করোনার বাড়াবাড়ি রুখতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান অর্থাৎ রাজ্যপালকে চিঠি দিলেন তৃণমূলের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী। বাংলায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতমধ্যে বৈঠক হয়েছে নবান্নে, উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে পুরসভা এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরেও। সিদ্ধান্ত নেওয়া হ্যেছে একাধিক বিষয়ে। বেড বাড়ানো থেকে সেফ হোম গুলিকে পুনরায় খোলা সকল বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ্যসচিব তা জানিয়েছেন রাজ্যপালকে।
এবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, মুখ্যমন্ত্রীর বদলে রাজ্যপালকেই চিঠি দিলেন তৃণমূলের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী, চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ইতিমধ্যেই সর্বশক্তিতে ফিরে এসেছে। শিশু-সহ হাজার হাজার প্রাণও কেড়ে নিতেও তা সক্রিয়। এই আবহে বয়স্কদের জন্য টিকা সরবরাহ করে সংক্রমণ রুখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে মহাকুম্ভ এবং রমজান উপলক্ষে পরিস্থিতি আরও বিগড়োতে পারে। আগামী কয়েক দিতে অতিমারি আরও শোচনীয় আকার নেবে। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ রুখতে আপনার কাছে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানাচ্ছি’।
মুখ্যমন্ত্রীর বদলে রাজ্যপালকে তৃণমূল সাংসদের চিঠি দেওয়ার প্রসঙ্গে মতুন করে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। শুভেন্দু অধিকারী তৃওমূল ত্যাগ করে বিজপিতে যাওয়ার পর থেকেই অধিয়ারি পরিবারের বাকিদের গেরুয়া যোগ নিয়ে জল্পনা এবং চর্চা চলেছে বিগত কয়েক মাস ধরেই। তাঁর মধ্যেই শিশির অধিকারী যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে, জানিয়েছেন নন্দীগ্রাম সহ বাংলা ক্ষমতায় আসছে বিজেপিই। তার পর থেকেই আরও বেশি নজরে ছিলেন দিব্যেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী নন, করোনা নিয়ন্ত্রণে দিব্যেন্দু ভরসা রাখছেন রাজ্যপালে, আর্জি জানিয়ে দিলেন চিঠি। এছাড়া নন্দীগ্রাম দিসব হোক বা অন্য প্রসঙ্গ, বারবার তাঁকে দেখা গেছে দাদার পাশেই দাঁড়াতে। এবারে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি না দিয়ে রাজ্যপালকে চিঠি দেওয়ায় সেই জল্পনা উঠে আসছে আবারও। তবে তৃণমূলের সাংসদ জানিয়েছেন, এই ভোট আবহে, মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা এখন সীমিত, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে বরং রাজ্যপালের এক্তিয়ার আছে সবরকম ভাবে মানুষের ভালো মন্দের জন্য কাজ করার, তাই তাঁকেই চিঠি দিয়েছেন তিনি।






