নজরবন্দি ব্যুরোঃ নির্মল মাজি এক বর্নময় চরিত্র, কখনও তিনি কুকুরের ডায়ালিসিস কাণ্ডে জড়িয়েছেন আবার কখনও ১০ লক্ষ টাকার জীবনদায়ী ওষুধ চুরি কাণ্ডের অভিযুক্তদের মুখে শোনা গিয়েছে তাঁর নাম! রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভুয়ো শংসাপত্র কাণ্ডেও নাম জড়িয়েছিল নির্মলের। তবুও আটকায়নি প্রাপ্তি যোগ। ফের একবার তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজিকে মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কিছুদিন আগে। এবার সেই নির্মল মুখ খুললেন ১০ লক্ষ টাকার ওষুধ লোপাট কাণ্ডে।
আর পড়ুনঃ মমতার পাড়ায় প্রচার করতে পারবেন না শ্রীজীব, মেইল করে জানালো পুলিশ


কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের টসিলিজুমাব ওষুধ ছুরি গিয়েছিল বেশ কিছুদিন আগে। এই প্রাণদায়ী ওষুধ প্রয়োজনের সময় খুঁজে পেতে কাল ঘাম ছোটে আর্তদের। সেই টসিলিজুমাব লোপাট কাণ্ডে এদিন আলোকপাত করেন নির্মল মাজি। তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “দোষীরা তো শাস্তি পেয়েছে। একেবারে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, শীতলকুচিতে পাঠানো হয়েছে। ছ’মাস বেতন বন্ধ। এক বছরের মাইনে কেটে নিয়ে সেই টাকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে এক সঙ্গে ২৬ টি টসিলিজুমাব লোপাট হয়ে যায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে। ঘটনার জেরে তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য দফতর। ঘটনার জেরে এক চিকিৎসক এবং এক সিস্টার কে পাকড়াও করা হয়। এমন জীবনদায়ী ওষুধ চুরি কাণ্ডের শাস্তি স্বরূপ চিকিৎসক দেবাংশী সাহাকে কোচবিহারের শীতলকুচিতে ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আওতাধীন জটামারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়। এবং সিস্টার ইনচার্জ সুনীতা ভৌমিককে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
১০ লক্ষ টাকার জীবনদায়ী ওষুধ চুরি, নির্মল বললেন মাইনে কেটে ‘শাস্তি’ দেওয়া হচ্ছে!!
এখানেই শাস্তি শেষ? এতবড় ঘটনার পেছনে কেউ কি নেই? ওঠে নির্মল মাজির নাম। চরম বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল বিধায়ক। কিন্তু তারপরেও তিনিই হন মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি। সেই নির্মল এদিন প্রাণদায়ী ওষুধ চুরি কান্ডের শাস্তি নিয়ে সাফাই দেন। সোজা জানিয়ে দেন, মাইনে কেটে নেওয়া হচ্ছে অভিযুক্তদের! প্রশ্ন উঠছে এমন জীবনদায়ী মহার্ঘ্য ওষুধ চুরি করে যারা পার পেয়ে যান স্রেফ ওষুধের দাম মিটিয়ে, তাঁরা ভবিষ্যতে যে একই কাজ আবার করবেন না তাঁর গ্যারান্টি কে দেবে?









