পিছিয়ে গেল মমতা-শুভেন্দুর আইনি যুদ্ধ, নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি আগামী ২৪ তারিখ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ পিছিয়ে গেল মমতা-শুভেন্দুর আইনি যুদ্ধ, নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি আগামী ২৪ তারিখ।  রাজ্যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে গোটা দেশের নজর ছিল নন্দীগ্রামে। যেখানে মুখোমুখি যুদ্ধে নেমেছিলেন দুই হেভিওয়েট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। গোটা রাজ্যে সিংহভাগ আসন জিতে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরলেও নন্দীগ্রামে হেরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ২রা মে সকালবেলা গননা শুরুর পর থেকেই সাপলুডোর খেলা চলতে থাকে সেখানে। একবার শুভেন্দু এগিয়ে যাচ্ছেন তো একবার তৃনমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আরও পড়ুনঃ ‘টিএমসি সেটিং মাস্টার’ কৈলাস! আস্থা হারিয়ে বিজয়বর্গীয়র বিরুদ্ধে পোস্টার কলকাতায়

গণনার দিন বিকেল ৫ টা নাগাত ১৭ রাউন্ড গণনার পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে অবশেষে জিতলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীকে হারিয়েছেন ১২০০ ভোটে। তারপর ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের মহানাটকীয় পরিবর্তন। শুভেন্দুর ফের গণনার দাবি মেনে গণনা করা হলে দেখা যায় ১৯২২ ভোটে এগিয়ে শুভেন্দু। কিছুক্ষণ পরই শুভেন্দু অধিকারীকে জয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। গোটা বিষয়টি নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তোলে তৃণমূল। আর তা নিয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবাই ভেবেছিল নন্দীগ্রামের মহা সংগ্রাম শেষ হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর করা মামলা বুঝিয়ে দিল এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তিনি।

আজই বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে হওয়ার কথা ছিল সেই মামলার শুনানি। তবে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার হবে নন্দীগ্রাম মামলার পরবর্তী শুনানি ৷ নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় আদালতে মামলাকারীর হাজিরা বাধ্যতামূলক ৷ হাজির না হলে আদালতে যথাযথ কারণ দেখাতে হয় ৷ নন্দীগ্রাম মামলায় মামলাকারী এদিন হাজির ছিলেন না ৷ এ কারণে মামলাকারীকে সময় দিল হাইকোর্ট ৷ আগামী ২৪ জুন হাইকোর্টে নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি হবে৷  ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮০, ৮০এ, ৮১, ১০০ এবং ১২৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে ৷ কিন্তু ঠিক কোন যুক্তিতে এই মামলা? তৃণমূলের পয়েন্ট, ১) গণনার সময় কেন্দ্রে আচমকাই দুঘণ্টার জন্য সার্ভার চলে গিয়েছিল। যার ফলে ফলাফল আপডেট হচ্ছিল না। ২) প্রথমে ১২০০ ভোটে জয়ী ঘোষণার পরও নতুন করে গণনায় শুভেন্দুকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। কেন?

৩) পোস্টাল ব্যালটের ভোট যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটিও না পান সেক্ষেত্রেও তাঁর ৮০০ ভোটে জয়ী হওয়ার কথা। কারণ নন্দীগ্রামে পোস্টাল ব্যালট ছিল মাত্র ৪০০ টি!! ৪) প্রথমে মমতা এবং পরে শুভেন্দুকে জয়ী ঘোষণা করার পর রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরী হয়। আবার গণনার দাবি জানায় তৃণমূল। কিন্তু সেই আবেদনে কর্ণপাত করেনি কমিশন। রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়েও মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এখন দেখার এই মামলার শুনানিতে আগামী বৃহস্পতিবার কি রায় দেয় আদালত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন