পূজোর আগে আর সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর মামলার শুনানি হবে না। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ঘোষণা করল শীর্ষ আদালত। জানা গিয়েছে, আগামী ১৪ অক্টোবর ফের একবার সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর মামলাটি প্রধান বিচারপতি বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি উঠবে।
আজ সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর মামলার শুনানি হল। দুপুর দু’টোর সময় মামলাটি এজলাসে ওঠার কথা থাকলেও তা শুরু হতে হতে বেলা সাড়ে চারটে বাজল। এদিনের শুনানিতেও ডিভিশন বেঞ্চের কাছে তদন্তের একটি স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


ঘুমন্ত অবস্থায় কীভাবে নির্যাতিতার চোখে আঘাত লাগল তা জানতে চান প্রধান বিচারপতি। সেক্ষেত্রে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহেতা জানিয়েছেন, চশমা খুলে না রাখার জন্য এটি হয়েছে। বিচারপতি তখন বলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় ধর্ষণ হয়েছিল। ঘুমের সময় কি করে চশমা পরে কেউ ঘুমাবে? তখন রাজ্যের আইনজীবী বলেন, চশমা খুলেই নির্যাতিতা ঘুমাচ্ছিলেন। সিজার লিস্টে চশমাটি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে এ রকম উল্লেখ রয়েছে।
নির্যাতিতার নাম এবং ছবি এখনও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার। আরজি কর নিয়ে যে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিটি বানানো হচ্ছে, তা-ও বন্ধের আর্জি জানানো হয়। তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট খতিয়ে দেখে তিন বিচারপতির বেঞ্চ মন্তব্য করে, সিবিআই তদন্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে, তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক।
জুনিয়র ডাক্তারদের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং আদালতে বলেন, এটা কোনও সাধারণ খুন বা ধর্ষণের ঘটনা নয়। আমাদের কাছে চারজনের নাম আছে। দু’জনের নাম আমরা সিবিআই-কে দিয়েছি। ওই চারজন ঘটনাস্থলে ছিলেন। পাশাপাশি, তদন্তের আওতায় আসা হাসপাতালের সাতজন চিকিৎসককে সাসপেন্ডের দাবি জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যের তরফে বলা হয়, পাঁচ জনকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে।


বিশেষ করে জুনিয়র চিকিৎসকেরা কেন সব পরিষেবা দিচ্ছেন না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। তখন ইন্দিরা জানান, জুনিয়র চিকিৎসকরা জরুরি পরিষেবা দিচ্ছেন। জরুরি পরিষেবার মধ্যেও ওপিডি এবং আইপিডি দুই পরে। রাজ্যের তরফে পাল্টা বলা হয়, জুনিয়র ডাক্তাররা বহির্বিভাগ ও অন্য ক্ষেত্রে পরিষেবা দিচ্ছেন না। বিচারপতি বলেন, সমস্ত ক্ষেত্রে জুনিয়ার চিকিৎসকদের পরিষেবা দিতে হবে।







