পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় পাঁচটি আসনে নির্বাচনের প্রক্রিয়া কার্যত আগেই নির্ধারিত ছিল। পাঁচটি আসনে পাঁচজনই মনোনয়ন জমা দেওয়ায় ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়েনি। সেই অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের চারজন এবং বিজেপির একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন। সোমবার বিধানসভায় রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে জয়ীর শংসাপত্র গ্রহণ করেন প্রার্থীরা। শংসাপত্র হাতে পেয়েই সংসদে নিজেদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও দায়িত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখলেন কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার এবং রাহুল সিনহা।
এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার, মেনকা গুরুস্বামী এবং কোয়েল মল্লিক। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রাহুল সিনহা। বাবুল সুপ্রিয় ছাড়া বাকি চারজনই প্রথমবার সংসদের উচ্চকক্ষে পা রাখতে চলেছেন।


সোমবার বিধানসভায় এসে রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে শংসাপত্র গ্রহণ করেন কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার এবং রাহুল সিনহা। তৃণমূলের মেনকা গুরুস্বামী উপস্থিত থাকতে না পারায় তাঁর হয়ে শংসাপত্র গ্রহণ করেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এদিন রিটার্নিং অফিসারের ঘরে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্যও দেখা যায়—রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে করমর্দন করেন বাবুল সুপ্রিয় ও রাহুল সিনহা।
শংসাপত্র পাওয়ার পর কোয়েল মল্লিক বলেন, “আমি সকলের আশীর্বাদ ও ভালোবাসা চাই। রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে সংসদে কাজ করতে চাই।” আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রচারে তাঁকে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে কোয়েল জানান, “অবশ্যই আমাকে প্রচারে দেখা যাবে।”
রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমারও শংসাপত্র হাতে নিয়ে বলেন, “এটা বড় সম্মান এবং বড় দায়িত্ব। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এই দায়িত্ব পালন করার।”


রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রসঙ্গে বাবুল সুপ্রিয় জানান, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ডেরেক ও’ব্রায়েনকে বলেছিলাম, আমার গানের জীবনের এখন সেরা সময় চলছে। পাঁচ বছর যেন আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।” একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান। বাবুলের কথায়, “রাজ্যসভা আমার পরিচিত জায়গা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকার সময়ও সেখানে যাতায়াত ছিল। এবার সেখানে গিয়ে রাজ্যের কথা তুলে ধরব।”
এদিন নিজের প্রাক্তন দল বিজেপিকেও কটাক্ষ করেন বাবুল। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে ভালো কাজ করেছিলাম। কিন্তু তার স্বীকৃতি পাইনি। পিছন থেকে ছুরি মারা হয়েছিল।” যদিও রাহুল সিনহার সঙ্গে করমর্দনের প্রসঙ্গে বাবুল বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সৌজন্য বজায় রাখা উচিত।
অন্যদিকে প্রথমবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, “এতদিন রাজনীতির ময়দানে কাজ করেছি। এবার সংসদীয় ক্ষেত্রেও কাজ করার সুযোগ পেলাম। নতুন ক্ষেত্র হলেও দ্রুত মানিয়ে নিতে পারব বলে বিশ্বাস করি।”
তৃণমূলকে আক্রমণ করতেও পিছপা হননি তিনি। রাহুলের দাবি, রাজ্যের সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। তাঁর কথায়, “গ্রামের মহিলারাও বলছেন—পরিবর্তনের কথা ভাবতে হবে না, শুধু যেন ভোট দিতে পারি এবং গণনা ঠিকভাবে হয়।”
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



