নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ভারতেও। বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পরই নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (Balendra Shah)-র সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নেপালের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত ভারতীয় বায়ুসেনা ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
বুধবার সকালে ভোতে কোশী নদীতে আচমকা হড়পা বান নেমে আসে। প্রবল জলের তোড়ে নদী সংলগ্ন একাধিক এলাকা কার্যত তছনছ হয়ে যায়। বহু বাড়ি, রাস্তা ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে। বিপর্যয়ের পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন সাড়ে তিনশোরও বেশি মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটকও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা মূলত নেপালে বেড়াতে এবং ট্রেকিংয়ের জন্য গিয়েছিলেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেই নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন মোদী। ফোনালাপে তিনি বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন। উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেপালের পাশে থাকার বার্তা দেন মোদী। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, এই কঠিন সময়ে নেপালের মানুষের পাশে রয়েছে ভারত। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নেপালের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত নয়াদিল্লি।
প্রতিবেশী দেশের বিপর্যয়ে শুধু রাজনৈতিক স্তরেই নয়, প্রশাসনিক স্তরেও দ্রুত তৎপর হয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, নেপালে পাঠানোর জন্য ইতিমধ্যেই ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অনুমতি বা সবুজ সংকেত মিললেই বিমানযোগে তা পাঠানো হবে।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৭ এবং সি-১৩০ পরিবহণ বিমান। এই বিমানগুলিতে ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় আর্থ মুভিং ইক্যুইপমেন্ট পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ দ্রুত করার পাশাপাশি জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পথও তৈরি হচ্ছে।
সূত্রের খবর, সি-১৩০ বিমান বুধবারই নেপালের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতিতে রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আরও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সি-১৭ বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
শুধু বায়ুসেনাই নয়, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন দেখা দিলে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বাহিনীকে দ্রুত মোতায়েন করা হতে পারে। অর্থাৎ নেপালের পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে ভারতীয় প্রশাসন।
এদিকে নেপালে নিখোঁজ ভারতীয়দের খোঁজ পাওয়াই এখন অন্যতম বড় অগ্রাধিকার। বিপর্যয়ের জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সময় লাগছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষও নেপালের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
ভোতে কোশীর আকস্মিক জলস্ফীতি নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশটির পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে ভারত। এখন নেপালের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সবুজ সংকেত মিললেই সেই সহায়তা মাটিতে পৌঁছনোর অপেক্ষা।



