নজরবন্দি ব্যুরো: নেপাল-চিন সীমান্তে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কার্যত তছনছ উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। ভূমিকম্পের পর তুষার-শিলাধস থেকে তৈরি জলস্রোত ভয়াবহ হড়পা বানের আকার নিয়ে ভাসিয়ে দিয়েছে রাসুয়া-সহ একাধিক এলাকা। একই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে চিনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরং সীমান্তবন্দরেও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)।
বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া (Rasuwa) জেলার ভোতেকোশি নদীতে আচমকা জলের প্রবল স্রোত নেমে আসে। প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভূমিকম্পের জেরে তুষার ও বরফ-শিলার ধস নদীর গতিপথে বিপুল জল ও ধ্বংসাবশেষ জমা করে দেয়। পরে সেই বাধা ভেঙে ভয়াবহ স্রোত নেমে আসে বলে জানা যাচ্ছে।
এই হড়পা বানের ধাক্কায় রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে।
নিখোঁজের সংখ্যাও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, দুর্গত এলাকায় ৩৮৪ জন পর্যটক ও যাত্রীর খোঁজ মিলছে না। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক। বিদেশিদের তালিকায় অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় রয়েছেন। তবে নিখোঁজের সংখ্যা ও মৃত্যুর হিসাব উদ্ধার অভিযান চলার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে পারে।
বিপর্যয়ের ঢেউ পৌঁছেছে চিনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরং কাউন্টি পর্যন্ত। সেখানে সীমান্তবন্দরের কাছে ভয়াবহ কাদাধসের ঘটনা ঘটেছে। চিনের সরকারি সংবাদসংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ জিরং সীমান্ত এলাকায় বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে নির্দেশ দেন শি জিনপিং।
শি জিনপিংয়ের নির্দেশ, নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। বিপজ্জনক এলাকায় থাকা মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি উদ্ধারকারীদের পরবর্তী বিপদের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
চিনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং (Li Qiang) নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা দ্রুত যাচাই করে উদ্ধারকাজ জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। বিদেশি নাগরিকদের বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য আদানপ্রদানের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। চিনের উপপ্রধানমন্ত্রী ঝাং গুওছিং (Zhang Guoqing) ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও বিপর্যয় মোকাবিলার কাজ তদারকি করছেন বলে শিনহুয়া জানিয়েছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের কাছে পৌঁছনো। দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করেছে। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়ে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি এবং নতুন করে নদীর জলস্তর বাড়ার আশঙ্কাতেও নজর রাখা হচ্ছে।



