কলকাতায় নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার এক কঠোর আইন প্রস্তাব করতে চলেছেন, যার মাধ্যমে যত্রতত্র থুতু ফেলা এবং গুটখা খেয়ে রাস্তায় থুতু ফেললেই অর্থদণ্ডের শাস্তি পাওয়া যাবে। একদিকে যেখানে শহরাঞ্চলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এমন পদক্ষেপ শহরের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ।
কেন এই পদক্ষেপ?


শহরের বিভিন্ন অংশে প্রায়ই দেখা যায়, কেউ গুটখা খেয়ে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে থুতু ফেলছে অথবা গাড়ি চালানোর সময় কাঁচ নামিয়ে রাস্তা নোংরা করছে। করোনা মহামারীর সময়েও, যাতে ভাইরাসের সংক্রমণ না ঘটে, তাই থুতু ফেলা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তবুও, রাস্তার উপর থুতু, পানের পিক এবং গুটখা খেয়ে নোংরা করার প্রবণতা কমেনি। এই কারণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার আরও কড়া ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা করছেন।
নতুন বিল: কি কি শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে?
নবান্ন সূত্রে খবর, বিধানসভায় নতুন একটি বিল আনা হবে যার মাধ্যমে যত্রতত্র থুতু ফেলা এবং গুটখা খেয়ে রাস্তায় ফেলার মতো অপরাধে কঠোর জরিমানা আরোপ করা হবে। মন্ত্রীসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


থুতু ও গুটখা ফেলা: পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষায় ক্ষতিকর
থুতু ফেলতে গিয়ে শহরের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাস্তায় পানের পিক বা গুটখা খেয়ে ফেলা দূষণ ছাড়াও স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে। করোনার সময়েও এই ধরনের অভ্যাসে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। রাজ্য সরকার এবার এইসব সামাজিক অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে চায় যাতে শহরের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে।
সমাজের সচেতনতা এবং প্রশাসনিক তৎপরতা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইন আনার জন্য শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগই নয়, সমাজের সচেতনতা তৈরির ওপরও জোর দিয়েছেন। নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো হবে যাতে তারা যত্রতত্র থুতু না ফেলেন এবং শহরের পরিবেশ নষ্ট না করেন।
রাজ্য সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে কলকাতার পরিবেশকে পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব হবে। এই আইন কার্যকর হলে শহরের রাস্তায় আর কোন থুতু এবং গুটখার পিকের দুর্গন্ধ থাকবে না, এবং মানুষ আরও সচেতন হয়ে উঠবেন। এখন শুধু অপেক্ষা, এই বিল কবে আইন হয়ে বাস্তবায়িত হবে এবং কতটা কার্যকরী হবে!








