নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রয়াত নারায়ণ দেবনাথ। বাংলা কমিকসের দুনিয়ায় ইন্দ্রপতন। প্রায় ২৫ দিনের লড়াই শেষ!বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় সাহিত্যিক-কার্টুনিস্ট-শিল্পী নারায়ণ দেবনাথ প্রয়াত (Narayan Debnath Died)। মঙ্গলবার মিন্টো পার্কের একটি নার্সিংহোমে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন ৯৭ পার করা শিল্পী-সাহিত্যিক। হাঁদা-ভোঁদা, বাঁটুল দি গ্রেট, নন্টে ফন্টের স্রষ্টাকে সুস্থ করে তুলতে কোনও ত্রুটি রাখেননি চিকিৎসকরা। কিন্তু বয়সের কারণে মঙ্গলবার আপামর বাঙালি হারাল তাদের প্রিয় বাঁটুল-স্রষ্টাকে।
আরও পড়ুনঃ স্থিতিশীল, তবে বিপদ মুক্ত নন নারায়ণ দেবনাথ


গত ২৪ ডিসেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফুসফুস থেকে কিডনির সমস্যা বাড়ছিল। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমছিল। অবস্থার বিপজ্জনক অবনতি হওয়ায় ১৬ জানুয়ারি তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। বয়সজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন কয়েক বছর ধরেই। এর আগেও একাধিক বার হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল শিল্পীকে। চিকিৎসার ভার নিয়েছিল রাজ্য সরকার। তৈরি হয়েছিল চিকিৎসকদের একটি আলাদা দল। কিন্তু এ বার আর বাড়ি ফেরা হল না বাঙালির কিশোরবেলার সঙ্গী নারায়ণ দেবনাথের।
শিবপুরের বাড়ির ছোট্ট ঘরটির টেবিল-চেয়ারে আজ ধুলো জমেছে। সমস্ত কাগজ পত্র ঢাকা পুরনো খবরের কাগজ দিয়ে। পাশে শুকিয়ে যাওয়া রং তুলি, স্কেচ পেন। ঘরের বাঁ দিকে একটা সোফা, তার উপর শো কেসে নানান সম্মান। শো কেসের কাচেও ধুলো জমেছে। গত ছয় দশক ধরে রোজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যে লোকটি আপন মনে আঁকিবুকি কাটতেন ওই টেবিলে, কালির দোয়াতে চুবিয়ে নিতেন রং-তুলি, শো-কেসের কাচ সরিয়ে উল্টে-পাল্টে দেখতেন তাঁরই সৃষ্টিকে কিন্তু বছর খানেক হল ওই চেয়ারের মালিক আর এসে বসেন না।

ডি.লিট পেয়েছিলেন কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ, ২০২১ সালে পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন তিনি। বাংলা সাহিত্যে নন্টেফন্টে-হাঁদাভোদা-বাঁটুল দি গ্রেটের মতো কার্টুনের স্রষ্টা তিনি। তাঁর তৈরি হাঁদাভোদা ৫৩ সপ্তাহ ধরে শুকতারা পত্রিকায় চলেছিল। ১৯৬৫ সালে বাঁটুল দি গ্রেটের সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। সেই পরে জনপ্রিয়তার শিখর ছুঁয়েছিল। এর পর ১৯৬৯ সালে নন্টে-ফন্টের সৃষ্টি করেন নারায়ণ দেবনাথ। অসংখ্য গ্রাফিক সিরিজ, কমিক্স সিরিজ তৈরি করেছিলেন তিনি। ১৯২৫ সালে হাওড়ার শিবপুরে তাঁর জন্ম।


দীর্ঘদিন শিশুমনের পাশাপাশি বড়দের মন দখল করে থাকলেও, বাংলার সাহিত্য জগতের অনেকেই সাহিত্যিক হিসেবে তাকে মান্যতা দিতে চাননি। তাতে থোড়াই কেয়ার বাঁটুলের। হাঁদাভোঁদারও তাতে এতটুকু মাথাব্যথা নেই। তারা তো একের পর এক দুষ্টুমিতে ব্যস্ত থেকেছে। আর সে দুষ্টুমির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি বাংলার তথাকথিত সাহিত্য বাজারও। দেরি হয়েছে কিন্তু অস্বীকার করতে পারেনি। তাই ২০১৩-তে তাঁর ঝুলিতে আসে সাহিত্য অকাদেমির মতো পুরস্কার। এমনকী দেশের অন্যতম সেরা পুরস্কার পদ্মশ্রীও পান জীবনের শেষ প্রান্তে।
প্রয়াত নারায়ণ দেবনাথ! নন্টেফন্টে-হাঁদাভোদা-বাঁটুলকে আমাদের জন্যে রেখে গেলেন স্রষ্টা

শরীরের জরায় কলম থেমেছে বহু আগেই। এবার তাঁর মনও থেমে গেল। থেমে গেলেন তিনিও। হাঁদাভোঁদা বাঁটুলের সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকা হল না আর। সেঞ্চুরির অনতিদূরেই মাত্র ৩ রানে আউট হয়ে যেতে হল পদ্মশ্রী নারায়ণ দেবনাথকে। তাতে কী! তিনি তো অপরাজিত মানুষের মনে। শিশু মন হোক কি পরিণত মানুষের মন, সেখানে একের পর এক সেঞ্চুরি, ডবল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থেকে যাবেন তিনি। শিশু মন হোক কি পরিণত মানুষের মন, সেখানে একের পর এক সেঞ্চুরি, ডবল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ।







