ভোটের আবহে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম। স্বাস্থ্য পরিষেবার কর্মসূচি ‘সেবাশ্রয়’কে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে নেমে পড়লেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড Abhishek Banerjee। মঞ্চ থেকেই একের পর এক তোপ দাগলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari-এর বিরুদ্ধে। কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেকের ঘোষণা, “বুক ঠুকে বলছি—এই নন্দীগ্রামের মাটিতে প্রতি বছর ১৭টা করে সেবাশ্রয় ক্যাম্প করব। আমার বিরুদ্ধে সমস্যা থাকলে মামলা করুন।”
নন্দীগ্রামে আয়োজিত সেবাশ্রয় শিবিরে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অভিষেক বলেন, “আপনার ইডি-সিবিআই তো ছ’বছর ধরে আমার পিছনে লেগে রয়েছে। কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারবে না। আজ না হোক, আগামী দিনে শুভেন্দু অধিকারী আর তাঁর পরিবারের লোকেরাও এই সেবাশ্রয়ে এসে চিকিৎসা করাবেন—দেখে নেবেন।” অভিষেকের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ মুহূর্তেই চড়ে যায়।

তবে চুপ করে থাকেননি শুভেন্দু অধিকারীও। পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে তিনি বলেন, “আমি খুব খুশি। প্যারাসিটামল আর ওআরএসের প্যাকেট বিলির জন্য বিরোধী দলনেতার কেন্দ্রকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।” এখানেই থামেননি তিনি। দাবি করেন, “এই কর্মসূচিতে নন্দীগ্রামের ৪১ শহিদ পরিবারের মধ্যে ৩৫টি পরিবারই উপস্থিত ছিল না।”
এরপর কাগজ দেখিয়ে শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, “পয়সা জমা দিয়ে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণের মেদিনীপুর-হলদিয়া ডিপো থেকে লোক আনা হয়েছিল। নন্দীগ্রামের মানুষ ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ, শুভেন্দু অধিকারীর সেবা, চিকিৎসা আর পাশে দাঁড়ানো সারা বছর ধরেই চলে।”
উল্লেখ্য, সেবাশ্রয় কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি, Diamond Harbour-এ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই। প্রথম দফায় টানা ৭৫ দিন এই স্বাস্থ্য শিবির চললেও তা সীমাবদ্ধ ছিল ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই। চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ‘সেবাশ্রয়-২’। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, এই পর্ব চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।


শুরুতে ঘোষণা ছিল, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভা এলাকাগুলিতেই ক্যাম্প হবে। কিন্তু আচমকাই Nandigram-এ সেবাশ্রয় মডেল ক্যাম্পের ঘোষণা করেন অভিষেক নিজে। ভোটের মুখে এই ঘোষণাতেই নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় প্রবল চাপানউতোর।
স্বাস্থ্য পরিষেবার নামে জনসংযোগ, না কি সরাসরি ভোটের লড়াই—সেবাশ্রয় ঘিরে এই প্রশ্নই এখন নন্দীগ্রামের রাজনীতির কেন্দ্রে।









