নন্দীগ্রামের সেবাশ্রয় শিবিরে বৃহস্পতিবার যেন আলাদা আবহ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে কাছে পেয়ে নিজেদের সমস্যার কথা উজাড় করে দিলেন স্থানীয় মানুষজন। কারও হাতে মেডিক্যাল রিপোর্ট, কারও চোখে দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা—সবটাই মন দিয়ে শুনলেন অভিষেক। জনতার ভিড়েই এক বৃদ্ধা সন্তানস্নেহে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। অভিষেকও আপনজনের মতো তাঁর কথা শুনে সমাধানের আশ্বাস দেন। নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়েই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-কে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন—গত পাঁচ বছরে নন্দীগ্রামের জন্য কী করেছেন তথাকথিত ‘ভূমিপুত্র’?
আগেই জানানো হয়েছিল, নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবিরের দু’টি মডেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন বাম জমানার জমি আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শহিদ পরিবারের সদস্যরা। সেই মতোই নির্ধারিত সময়ে শিবিরের উদ্বোধন হয়। এরপর সেখানে পৌঁছে গোটা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রয়োজন শুনে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেন।


ভিড়ের মধ্যেই এগিয়ে আসেন এক বৃদ্ধা। সবার সামনে অভিষেককে জড়িয়ে ধরে নিজের কথা বলতে শুরু করেন তিনি। অভিষেক ধৈর্য ধরে তাঁর নাম-ঠিকানা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এই মুহূর্ত ঘিরে উপস্থিত মানুষের মধ্যে আবেগ ছড়িয়ে পড়ে।
সেবাশ্রয় শিবির পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে তিনি প্রতিটি মুহূর্তে আছেন এবং থাকবেন। একই সঙ্গে তিনি ফের প্রশ্ন তোলেন—নন্দীগ্রামের বিধায়ক ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মানুষের জন্য কী করেছেন? তাঁর দাবি, শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আসল কাজ।
প্রসঙ্গত, এই সেবাশ্রয় শিবিরে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিষেবা মিলবে। প্রতিটি শিবিরে থাকছেন ৩০ জন চিকিৎসক ও ৩০ জন নার্স, পাশাপাশি ফিজিওথেরাপিস্ট ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী। তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রতিটি শিবিরে প্রায় ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবকও নিয়োজিত থাকবেন—যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে স্বাস্থ্যপরিষেবা পান।









