খাস কলকাতার বুকে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য। প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসতেই নাটকীয় মোড় নিল তদন্ত। ২২ বছরের তরুণী পুষ্পা কুমারীকে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে—স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। কে বা কারা, কী কারণে এই খুন—তা ঘিরে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রেমঘটিত অশান্তির জেরে এই পরিণতি কি না, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও গভীর কারণ—তদন্তকারীদের মূল ফোকাস সেখানেই।
মৃত তরুণীর নাম পুষ্পা কুমারী (২২)। তিনি Narkeldanga থানা এলাকার শিবতলা লেনের বাসিন্দা। ১৪ তারিখ দুপুর আনুমানিক ৩টে নাগাদ তাঁর বাবা রাজ নারায়ণ শাহ পুষ্পাকে নিয়ে যান Nil Ratan Sircar Medical College-এ। তখনই চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের নজরে আসে তরুণীর গলায় স্পষ্ট দাগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৪ তারিখ দুপুরে পুষ্পার বাবা রাজ নারায়ণ শাহের কাছে ফোন আসে প্রতিবেশী কমল সিংয়ের। তিনি জানান, পুষ্পা নিজের ঘরে বিছানার উপর অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন, কোনও সাড়াশব্দ নেই। খবর পেয়েই বাড়িতে ছুটে যান রাজ নারায়ণ। মেয়েকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
প্রাথমিকভাবে নারকেলডাঙা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তে পাঠায়। পরদিন দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। কিন্তু ১৫ তারিখ সন্ধ্যায় প্রতিবেশী বিজন্তী দেবীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়। তার মধ্যেই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসায় তদন্তের অভিমুখ বদলে যায়।
রিপোর্টে স্পষ্ট—পুষ্পাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে কি কেউ ঘরে ঢুকেছিল? পরিচিত কেউ, না কি বাইরের কেউ? প্রেমঘটিত কোনও বিবাদ কি এই হত্যার কারণ? উত্তর খুঁজতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষা করা হচ্ছে পুষ্পার মোবাইল ফোন—শেষ কবে, কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
সব মিলিয়ে, খাস কলকাতার বুকে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে রহস্য ঘনীভূত। তদন্তকারীদের আশা, প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও জেরার সূত্র ধরেই শীঘ্রই সামনে আসবে এই নৃশংস খুনের আসল কারণ।



