দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বচসার পর এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার যতীন দাস পার্কের ভিতরে অস্থায়ী কোয়ার্টারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভাইকে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে দাদা চন্দন হেলার বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি ৩২ বছরের সুরজ হেলাকে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত চন্দন হেলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা অস্ত্র। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবানীপুরের যতীন দাস পার্কের ভিতরে ১৯ ও ২০ নম্বর অস্থায়ী কোয়ার্টারের সামনে শুক্রবার সুরজ হেলা ও তাঁর দাদা চন্দন হেলার মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, সেই সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুরজের উপর হামলা চালান চন্দন। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে বলে জানা গিয়েছে। দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝামেলার আওয়াজ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
রক্তাক্ত অবস্থায় সুরজকে উদ্ধার করে দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরই অভিযুক্ত চন্দন হেলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা ধারালো অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা ও মৃতের পোশাকও সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা।
সুরজের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নমুনা ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফল তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
কী কারণে দুই ভাইয়ের মধ্যে বচসা শুরু হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের তদন্তে সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই ভাইই অবিবাহিত ছিলেন। তাঁদের নেশায় আসক্তি ছিল বলেও জানা গিয়েছে। তবে এই বিষয়গুলির সঙ্গে ঘটনার সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ঠিক কী পরিস্থিতিতে বচসা হাতাহাতিতে পরিণত হল এবং কীভাবে সুরজের উপর হামলা চালানো হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত এগোবে।
ভবানীপুরের এই ঘটনায় আপাতত অভিযুক্ত দাদা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে খুনের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: সরবরাহ করা সংবাদবিবরণী ও পুলিশ সূত্রের নামে উল্লেখিত তথ্য। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।



