‘ভারতের বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্র নয়’—সুর নরম ঢাকার, তবে জে এফ–১৭ কেনা নিয়ে বাড়ছে কূটনৈতিক কৌতূহল

বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের আশ্বাস—ভারতের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পরিকল্পনা নেই। তবু পাকিস্তানের জে এফ–১৭ যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ ঘিরে কূটনৈতিক জল্পনা বাড়ছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক ঘিরে জল্পনার মাঝেই স্পষ্ট বার্তা দিল ঢাকা। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জানিয়ে দিলেন, ভারতের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পরিকল্পনা বা শত্রুতামূলক অবস্থান নিচ্ছে না বাংলাদেশ। তাঁর কথায়, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক মসৃণ ও স্থিতিশীল।” কিন্তু এই আশ্বাসের পাশাপাশি আর এক খবরে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্নও দানা বাঁধছে—পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান জে এফ–১৭ কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষকর্তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন জানুয়ারিতে ইসলামাবাদে বাংলাদেশের ও পাকিস্তানের বায়ুসেনা প্রধানদের বৈঠকের পর থেকেই সামরিক সহযোগিতা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সেই বৈঠকের পর জে এফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা জোরালো হয়। সম্প্রতি খোদ পাকিস্তানি সেনার তরফেও এই আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে।

জে এফ–১৭ যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান ও চিনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি। তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি—এই দুই কারণেই বহু উন্নয়নশীল দেশের কাছে বিমানটি আকর্ষণীয়। বাংলাদেশের বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরেই বহরের আধুনিকীকরণের কথা ভাবছে, আর সেই প্রেক্ষিতেই জে এফ–১৭ একটি বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে বলে সামরিক সূত্রের দাবি।

তবে প্রশ্ন উঠছে—পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা কি ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ? সেনাপ্রধানের বক্তব্যে সেই আশঙ্কা নস্যাৎ করারই চেষ্টা। তাঁর স্পষ্ট দাবি, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য। ভারতের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি ঢাকার কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা। ভারত, চিন, পাকিস্তান—তিন দেশের সঙ্গেই কার্যকর সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে বাংলাদেশ। অন্য দিকে, নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহল এই বিষয়টির উপর সতর্ক নজর রাখলেও প্রকাশ্যে উদ্বেগ দেখাতে চাইছে না।

সব মিলিয়ে, মুখে আশ্বাস আর বাস্তবে প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ—এই দুই সমান্তরাল পথে হাঁটছে ঢাকা। জে এফ–১৭ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার আকাশ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে কি না, সেটাই এখন দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত